তেলের দাম বাড়ল, খরচ কমাবেন যেভাবে
ডিজেল-পেট্রলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পর খরচ সামলাতে জেনে নিন কার্যকর কিছু উপায়।
ফিচার ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পেট্রল পাম্পে গাড়ির লাইন।
রবিবার রাতের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সোমবার থেকে দেশে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন দরে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়, পেট্রল ১৬০ টাকায়, অকটেন ১৬৫ টাকায় এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকায়।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়া এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) লোকসান কমানোর লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও বাজার খরচে।
এই বাড়তি খরচ সামলাতে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যাতায়াতে সাশ্রয়ের উপায়
একা গাড়ি বা মোটরসাইকেল না নিয়ে একই রুটের সহকর্মী বা বন্ধুর সঙ্গে কারপুলিং করলে তেলের খরচ ভাগ হয়ে যায়। সপ্তাহে অন্তত দুই-তিন দিন গাড়ি না নিয়ে মেট্রোরেল বা বাসে যাতায়াত করলে জ্বালানি খরচ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
তেলের দাম বাড়ায় রিকশা-সিএনজি ভাড়াও বাড়ছে। তাই কম দূরত্বে হেঁটে চলা এবং একটু বেশি দূরত্বে বাইসাইকেল ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে খরচ কমার পাশাপাশি শরীরও সুস্থ থাকে।
গাড়ি চালানোয় সাশ্রয়ের উপায়
হঠাৎ গতি বাড়ানো বা ঘন ঘন ব্রেক করা এড়িয়ে চললে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ তেল সাশ্রয় হয়। ট্রাফিক সিগন্যালে এক মিনিটের বেশি গাড়ি থামলে ইঞ্জিন বন্ধ রাখা ভালো। ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিতে সবচেয়ে ভালো মাইলেজ পাওয়া যায়।
টায়ারে হাওয়া কম থাকলে ইঞ্জিনে চাপ বেড়ে বেশি তেল খরচ হয়, তাই নিয়মিত টায়ার প্রেশার দেখে নেওয়া জরুরি। সময়মতো এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার এবং ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করলেও মাইলেজ বাড়ে। গাড়িতে অপ্রয়োজনীয় ভারী মালামাল না রাখাও সাশ্রয়ী অভ্যাস।
বাইরে বের হওয়ার আগে একটি রুট পরিকল্পনা করে একই যাত্রায় একাধিক কাজ সারলে অতিরিক্ত কিলোমিটার ও তেল খরচ দুটোই কমে।
জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ ব্যক্তির হাতে না থাকলেও ব্যবহারের অভ্যাসে ছোট পরিবর্তন এনে খরচের লাগাম টেনে ধরা সম্ভব।