পেট ভরে খাওয়ার পরও কেন দ্রুত ক্ষুধা লাগে?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
ছবি: এআই দিয়ে বানানো।
দুপুরে ভালোভাবে খাওয়ার পরও অনেকের দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যেই আবার কিছু খেতে ইচ্ছা করে। কখনো বিস্কুট, কখনো মিষ্টি বা নাশতার প্রতি তৈরি হয় বাড়তি আকর্ষণ। এতে অনেকেই মনে করেন, হয়তো বেশি খাওয়ার পরও পেট ভরেনি। তবে সব সময় বিষয়টি খাবারের পরিমাণের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ভারসাম্য না থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যে আবার ক্ষুধা লাগতে পারে।
ভারতের বেঙ্গালুরুর অ্যাপোলো হাসপাতালের ডায়েটিশিয়ান ডা. সন্ধ্যা সিং এস-এর মতে, দুপুরের খাবারে কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি পর্যাপ্ত প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ থাকা জরুরি। শুধু বেশি পরিমাণে খাবার খেলেই যে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকবে, তা নয়। খাবারের উপাদানগুলোর সঠিক ভারসাম্যও তৃপ্তি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। দুপুরের খাবারের পর দ্রুত ক্ষুধা লাগার পেছনে চারটি কারণ থাকতে পারে।
১. খাবারে প্রোটিন কম থাকা
প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও কমাতে পারে। দুপুরের খাবারে ভাত বা রুটির পরিমাণ বেশি হলেও প্রোটিনের উৎস কম থাকলে খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই আবার ক্ষুধা লাগতে পারে। তাই খাবারে মাছ, মাংস, ডিম, ডালসহ বিভিন্ন প্রোটিনের উৎস রাখা জরুরি।
২. ফাইবারের ঘাটতি
সবজি, ডাল, পূর্ণ শস্য ও ফলে থাকা ফাইবার খাবারের পরিমাণ বা ‘বাল্ক’ বাড়াতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি পাকস্থলী থেকে খাবার বের হওয়ার প্রক্রিয়া ধীর করতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি থাকে। দুপুরের খাবারে সবজি বা অন্যান্য ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার কম থাকলে খাওয়ার পর দ্রুতই আবার কিছু খেতে ইচ্ছা করতে পারে।
৩. শুধু কার্বোহাইড্রেটনির্ভর খাবার
অনেকের দুপুরের খাবারের বড় অংশজুড়ে থাকে ভাত, পোলাও, খিচুড়ি বা রুটি। কার্বোহাইড্রেট শরীরে শক্তি জোগায়। তবে খাবারে প্রোটিন ও ফাইবারের পরিমাণ কম থাকলে তা দীর্ঘ সময় তৃপ্তি নাও দিতে পারে। তাই শুধু বেশি পরিমাণে খাবার খেয়ে পেট ভরানোর চেয়ে খাবারের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে ভারসাম্য রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৪. ফলের জুস ও অতিরিক্ত তরল খাবার
ফলের জুস স্বাস্থ্যকর মনে হলেও পুরো ফলের তুলনায় এতে ফাইবার কম থাকে। ফাইবার কম থাকায় তরল খাবার শরীরে তুলনামূলক দ্রুত শোষিত হতে পারে। এ ছাড়া জুস খাওয়ার সময় চিবানোর প্রয়োজন হয় না, যা খাবার থেকে তৃপ্তি পাওয়ার অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সম্ভব হলে নিয়মিত জুস পান করার বদলে পুরো ফল খাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া ভালো।
দুপুরের খাবারের পর বারবার ক্ষুধা লাগলে শুধু খাবারের পরিমাণ বাড়ানোর আগে প্লেটে কী কী খাবার আছে, সেদিকে নজর দেওয়া উচিত। খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের ভারসাম্য আছে কি না, তা দেখা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া এবং বারবার খাবার বাদ দেওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই দুপুরের খাবারের মাত্র দুই ঘণ্টা পর আবার খেতে ইচ্ছা করলে বিষয়টিকে সবসময় রোগের লক্ষণ মনে করার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ঠিকমতো আছে কি না, সেদিকে আগে নজর দেওয়া উচিত।
