ছবি: এআই দিয়ে বানানো।
কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে বিপদ শুধু হৃদযন্ত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না, দ্রুত ঝুঁকিতে পড়ে মস্তিষ্কও। হৃদযন্ত্র রক্ত পাম্প করা বন্ধ করে দেওয়ায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মস্তিষ্কে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্তের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এতে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতিও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সঙ্গে সঙ্গেই মস্তিষ্কও বিপদের মুখে পড়ে। কারণ হৃদযন্ত্র রক্ত পাম্প করা বন্ধ করলে মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছায় না। ফলে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট শুধু হৃদযন্ত্রের জন্যই নয়, মস্তিষ্কের জন্যও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
হৃদযন্ত্র বন্ধ হলে মস্তিষ্কে কী ঘটে?
হৃদযন্ত্র কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করা বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবে কাজ করার ক্ষমতা হারাতে শুরু করে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুত জ্ঞান হারাতে পারেন।
অক্সিজেনের ঘাটতি দীর্ঘ সময় চলতে থাকলে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মস্তিষ্ক যত বেশি সময় রক্ত ও অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত থাকবে, স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কাও তত বাড়বে। তবে কত দ্রুত ও কতটা ক্ষতি হবে, তা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণ এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এক নয়
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এক নয়। তাই মস্তিষ্কের ওপরও দুটির প্রভাব আলাদা।
হার্ট অ্যাটাক হলে হৃদযন্ত্রে রক্তপ্রবাহ কমে যায় বা কোনো অংশে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে হৃদযন্ত্র অনেক ক্ষেত্রে তখনও রক্ত পাম্প করতে থাকে। ফলে মস্তিষ্কে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছাতে থাকে।
তবে গুরুতর হার্ট অ্যাটাকের কারণে হৃদযন্ত্রের রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা অনেক কমে গেলে বা হৃদস্পন্দনের ছন্দে গুরুতর সমস্যা দেখা দিলে মস্তিষ্কেও অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্র হঠাৎ কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করা বন্ধ করে দেয়। ফলে মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ দ্রুত ব্যাহত হয়। এ কারণে মস্তিষ্কের ক্ষতির ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
কেন প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ?
কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সময় মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও রক্ত না পাওয়ায় দ্রুত ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই এমন পরিস্থিতিতে প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ।
কেউ হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেললে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে। পরিস্থিতি ও প্রশিক্ষণ অনুযায়ী দ্রুত সিপিআর (সিপিআর) শুরু করা যেতে পারে। কাছে উপযুক্ত এডি (অটোমেটেড এক্সটার্নাল ডিফিব্রিলেটর) থাকলে সেটিও নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করা জরুরি।
সিপিআর চিকিৎসা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত মস্তিষ্ক ও শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে কিছুটা রক্তপ্রবাহ বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। আবার নির্দিষ্ট ধরনের কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে দ্রুত ও সঠিকভাবে এডি ব্যবহার হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনতে এবং জীবন বাঁচাতে সহায়তা করতে পারে।
কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পরও মস্তিষ্কে সমস্যা হতে পারে?
কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট থেকে বেঁচে গেলেই যে মস্তিষ্কে কোনো ক্ষতি হয়নি, এমন নয়। দীর্ঘ সময় অক্সিজেনের ঘাটতি থাকলে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এর মধ্যে বিভ্রান্তি, স্মৃতিশক্তির সমস্যা, কথা বলা বা চলাফেরায় অসুবিধা এবং খিঁচুনির মতো সমস্যা থাকতে পারে। এসব সমস্যার তীব্রতা অনেকটাই নির্ভর করে মস্তিষ্ক কতক্ষণ পর্যাপ্ত অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত ছিল এবং কত দ্রুত স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালন ফিরিয়ে আনা হয়েছে তার ওপর।
তাই কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ক্ষেত্রে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো সিপিআর ও প্রয়োজন অনুযায়ী ডিফিব্রিলেশন মস্তিষ্কসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে সহায়তা করতে পারে।
