নাগালের বাইরে বিস্কুট-রুটির দাম, কী খাচ্ছেন দিনমজুররা?
দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। অথচ সরকার বলেছিল ২০ শতাংশ। বিপদে পড়েছেন দিনমজুররা।
দিনমজুরদের সস্তা নাস্তা রুটি, কলা ও বিস্কুট—দাম বেড়ে যা এখন অনেকের নাগালের বাইরে।
ঢাকার রাস্তায় প্রতিদিন কাজে বের হন হাজারো দিনমজুর। তাদের দিন শুরু হতো একটা সহজ নিয়মে। এক কাপ চা। সঙ্গে একটা রুটি বা কয়েকটা বিস্কুট। কখনো একটা কলা। দাম কম ছিল। কিন্তু পেট ভরত। শরীরে শক্তি আসত। কিন্তু এখন সেই হিসাব আর মিলছে না। রুটি, কলা আর বিস্কুট—তিনটি জিনিসের দামই বেড়ে গেছে। দিনমজুরদের আয়ে এখন এই খরচ কুলাচ্ছে না।
রুটি-বিস্কুট সস্তা ছিল। সহজে পাওয়া যেত। রাস্তার যেকোনো দোকানে অল্প টাকায় কেনা যেত। তাই দিনমজুর আর রিকশাচালকরা এগুলোই খেতেন নিয়মিত। কিন্তু এখন বাজারে বেকারির জিনিসের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। অথচ সরকার ঘোষণা দিয়েছিল দাম বাড়বে মাত্র ২০ শতাংশ। বাস্তবে দাম বেড়েছে ঘোষণার প্রায় আড়াই গুণ। এই বাড়তি দামের চাপ সবচেয়ে বেশি পড়েছে গরিব মানুষের ওপর। কারণ তাদের হাতে বাড়তি টাকা নেই।
রুটি-বিস্কুট বানাতে লাগে ময়দা, চিনি, তেল আর খামির। এই চারটি জিনিসের দামই বেড়েছে। যেমন, পাইকারি বাজারে ময়দার দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আগে ছিল ১,২০০ টাকা। এখন হয়েছে প্রায় ২,২৮৮ টাকা। এই বাড়তি খরচ সামলাতে বেকারি মালিকরা দুটো পথ বেছে নিয়েছেন। এক, দাম বাড়িয়েছেন। দুই, জিনিসের আকার ছোট করেছেন। অনেকে দুটোই করেছেন। ফলে ক্রেতা একই দামে আগের চেয়ে কম জিনিস পাচ্ছেন।
দিনমজুরদের জন্য এই সমস্যা অনেক বড়। রুটির দাম মাত্র দুই-তিন টাকা বাড়লেও তাদের কাছে এটা বড় খরচ। তাই অনেকে নাস্তার পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন। কেউ কেউ নাস্তাই বাদ দিচ্ছেন। কিন্তু খাবার কম খেলে শরীরে শক্তি কমে। শক্তি কমলে কাজ করতে কষ্ট হয়। কাজ কম হলে আয়ও কমে যায়। এভাবে একটা চক্র তৈরি হয়। এই চক্র থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
শুধু ক্রেতা নন, বিক্রেতারাও চাপে আছেন। কাঁচামালের দাম বেড়েছে। শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিলও বেড়েছে। এই অবস্থায় ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হবে। অন্যদিকে ক্রেতার পকেটে টাকা কম। এই দুটো সামলাতে গিয়ে অনেকেই জিনিসের আকার ছোট করে দিচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, খাবারের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় গরিব মানুষের। কারণ তাদের আয়ের বড় অংশই খরচ হয় খাবার কিনতে। অন্যদিকে তাদের মজুরি সেভাবে বাড়ছে না। ফলে সংসার চালাতে তাদের অন্য খরচ কমাতে হচ্ছে। বাসাভাড়া, রান্নার গ্যাস, সন্তানের লেখাপড়া—সব জায়গায় টান পড়ছে।
রুটি, কলা আর বিস্কুট—শুনতে ছোট জিনিস মনে হয়। কিন্তু অনেক মানুষের কাছে এগুলো বেঁচে থাকার লড়াইয়ের একটা অংশ। যখন এই সাধারণ খাবারও হাতের বাইরে চলে যায়, তখন প্রশ্ন ওঠে—গরিব মানুষ কীভাবে চলবে? অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এখন দরকার সরকারি সাহায্য। যেমন ভর্তুকি বা দাম নিয়ন্ত্রণ। তাহলে দিনমজুরদের এই ছোট নাস্তাটুকু আবার তাদের নাগালে ফিরে আসবে।