EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

আশ্বিনের প্রথম ভোরে কুয়াশার চাদরে ঢাকা প্রকৃতি

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

আশ্বিনের প্রথম ভোরে কুয়াশার চাদরে ঢাকা প্রকৃতি

আশ্বিনের প্রথম ভোরে ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে ঠাকুরগাঁওয়ের সড়ক।

অ অ

পঞ্জিকার পাতায় সবেমাত্র পা রাখলো শরৎকালের দ্বিতীয় মাস আশ্বিন। সনাতন নিয়ম অনুযায়ী এখন শিউলি ঝরা সকাল আর কাশবনের দোলা লাগার দিন। কিন্তু প্রকৃতির খেয়ালে উত্তরবঙ্গের সীমান্ত ঘেঁষা জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে দেখা মিললো সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপের। আশ্বিনের প্রথম দিনেই কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের ভোরের প্রকৃতি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে ঘুম ভাঙতেই জেলাবাসী পরম বিস্ময়ে দেখলো, চারপাশ ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন। শরতের নীল আকাশ আর চনমনে রোদের বদলে চারদিকে এক মায়াবী, স্নিগ্ধ ও শীতল আবহাওয়া। কুয়াশার গাঢ়ত্বের সাথে ভোরে অনুভূত হয়েছে হালকা শীতের আমেজও, যা মনে করিয়ে দিচ্ছে সমাগত হেমন্ত আর শীতের আগমনী বার্তা।

ভোরে কুয়াশার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, গ্রামীণ জনপথ থেকে শুরু করে শহরের পিচঢালা সড়কগুলোও কুয়াশায় ঢাকা পড়ে। সকাল ৭টা/৮টা পর্যন্ত দৃষ্টিসীমা অনেকটাই কমে আসে। ফলে দূরপাল্লার নৈশকোচ, ট্রাকগুলোকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে। হেডলাইটের হলুদ আলো আর কুয়াশার মেলবন্ধনে ভোরের সড়কগুলোতে তৈরি হয়েছিল এক অন্যরকম দৃশ্যপট।

সাধারণত কার্তিক কিংবা অগ্রহায়ণের আগে উত্তরবঙ্গে এমন ঘন কুয়াশার দেখা মেলে না। তাই ঋতুর শুরুতে হঠাৎ এমন ঘন কুয়াশা ও স্নিগ্ধ শীতল আবহাওয়া ঠাকুরগাঁওয়ের ভোরের চিরচেনা পরিবেশে এনে দিয়েছে এক অদ্ভুত পরিবর্তনের ছোঁয়া।

সকালে প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া মানুষেরা এই স্নিগ্ধ আবহাওয়া বেশ উপভোগ করেছেন। ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু আর কুয়াশার চাদর ভেদ করে কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে ছিল এক অন্যরকম ভালো লাগা।

অবশ্য এই শীতুটে ভাব খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে, ঘড়ির কাঁটা নয়টা ছুঁইছুঁই করতেই কাটতে শুরু করে কুয়াশার চাদর। মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দেয় সোনালী সূর্য। সূর্যের আলোর তেজ বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশা মিলিয়ে যায় এবং প্রকৃতি আবার ফিরে পায় তার চেনা রূপ।

জলবায়ুর পরিবর্তন নাকি বায়ুমণ্ডলের অতি আর্দ্রতা— কারণ যাই হোক না কেন, আশ্বিনের প্রথম সকালের এই ঘন কুয়াশা ঠাকুরগাঁওবাসীকে এক টুকরো শীতের অনুভূতি দিয়ে গেছে, যা দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো।

আরও পড়ুন