EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমায় এই ভুলগুলো করছেন না তো?

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমায় এই ভুলগুলো করছেন না তো?

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

নিচতলা থেকে তিনতলা সিঁড়ি দিয়ে উঠতেই বুক ধড়ফড় করছে? টের পাচ্ছেন তো শরীরের সাথে বাড়ছে ফুসফুসের বয়সও? কম বয়সেই ফুসফুসের অবস্থা হয় যদি বয়স্ক ব্যক্তির মতো, তাহলে বুঝতে হবে জীবনযাপনে ভুল অভ্যাসগুলো ভোগাতে শুরু করছে। সময় থাকতেই আপনার ভুলগুলো বুঝে নিন। 

গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাসজনিত সংক্রমণ ফুসফুসের অকার্যকারীতার জন্য দায়ী। সেই সাথে দায়ী আমাদের নিত্যদিনের অভ্যাসগুলোও। আজকাল ডিভাইসের ব্যাপক ব্যবহার, কায়িক শ্রম কমে যাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি কারণে কম বয়সেই ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমছে।

ফুসফুসের কার্যক্ষমতা পরিমাপ করে ‘স্পাইরোমেট্রি’ পরীক্ষা দিয়ে। এতে বুঝা যায় ফুসফুস কতটা বাতাস ধরে রাখতে পারছে ও কী পরিমাণে বাতাস বাইরে বের করছে। হাঁপানি, সিওপিডির রোগীদের এই পরিমাপ ভিন্ন ভিন্ন হয়।

অল্প হাঁটাচলায় হাঁপিয়ে যাওয়া, সিঁড়ি ব্যবহার করে চলতে বুক ব্যথা করা, শ্বাসকষ্ট এগুলোর একটাও লক্ষণ যদি থাকে - সাবধান! আপনার লাইফস্টাইলে পরিবর্তন আনুন। জেনে নিন ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমাতে কী কী ভুলগুলো করছেন।

ধূমপান

তামাকের ধোঁয়ায় থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক ফুসফুসে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ বাড়ায়। ফলে কোষের ক্ষয় হতে থাকে। সিগারেট বা তামাকজাত পণ্যে থাকা নিকোটিন শ্বাসনালির ভিতরের আস্তরণ ও বায়ুথলিগুলিকে নষ্ট করতে থাকে। ফলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে।

পরোক্ষ ধূমপান

প্রত্যক্ষ ধূমপানের চেয়ে অনেকসময় পরোক্ষ ধূমপান ক্ষতিকর হয়ে পড়ে। পাশে থাকা ধূমপায়ীর ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে গেলেও ক্ষতি। তাতে শ্বাসনালির প্রদাহ বেড়ে ফুসফুসের কোষের ক্ষয় ঘটতে থাকে।

দূষিত জায়গায় মাস্ক না পরা

রাস্তায় বের হলে যানবাহনের ধোঁয়া, ধূলিকণা ও কারখানার বিষাক্ত গ্যাস প্রতিদিন শ্বাসনালি দিয়ে ঢোকে। মাস্ক না পড়লে সরাসরি এসব ভাসমান সূক্ষ্ম কণা সরাসরি শ্বাসনালিতে ঢুকে জমা হতে থাকে। ফলে শ্বাসনালিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হয় যা ফুসফুসের আয়ু কমিয়ে দেয়।

আলো-বাতাসহীন ঘরে থাকা

আলো-বাতাস কম ঢোকে এমন ঘরে দিনের পর দিন থাকলে ফুসফুসের ক্ষতি হয়। বদ্ধ ঘরে চুলার ধোঁয়া, মশার কয়েল, সিগারেটের ধোঁয়া থেকে ফুসফুসের কোষগুলো ক্ষতি হতে থাকে। ফলে বেশিদিন এমন চললে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

আলসেমির অভ্যাস

সারাদিন শুয়ে বসে থাকা, কায়িক পরিশ্রম না করা, ব্যায়াম না করলে ফুসফুসের ধারণ ক্ষমতা কমতে থাকে। পেশি দুর্বল হতে থাকে। এক্ষেত্রে ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রের ওপর বেশি নির্ভরশীলতাও দায়ী। ফলে অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।

অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া

অল্প সর্দি-কাশি, মাথাব্যথায় অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলার অভ্যাস ফুসফুসের ক্ষতি করে। এতে শ্বাসযন্ত্রের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হতে থাকে। ফলে সামান্য ঠান্ডা লাগলেও নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিসের মতো রোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বারবার সংক্রমণ হতে থাকলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা স্থায়ীভাবে কমে যায়।

পানি কম খাওয়া

ফুসফুস ও শ্বাসনালিকে পরিষ্কার রাখতে পানি পর্যাপ্ত খেতে হয়। পানি কম খেলে মিউকাস ঘন হয়ে শ্বাসনালিতে আটকে যায়। আর ফুসফুসে ক্রমাগত সংক্রমণ হতে থাকে যা অকালেই ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

জীবনযাপনের ভুল অভ্যাসগুলো চিহ্নিত করুন। সময় থাকতে ফুসফুসের বিপদচিহ্নগুলো বুঝে নিন।

আরও পড়ুন