EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

সুইচ টিপলেই কেন জ্বলে ওঠে বাল্ব?

সুইচ চাপার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ আলোর গতিতে বাল্বে পৌঁছে জ্বালিয়ে দেয় আলো, জানুন বিজ্ঞান

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

সুইচ টিপলেই কেন জ্বলে ওঠে বাল্ব?

সুইচ চাপার মুহূর্তেই আলোর গতিতে ছুটে যায় বিদ্যুৎ, জ্বলে ওঠে বাল্ব।

অ অ

ঘরে ঢুকেই দেওয়ালের ছোট্ট সুইচে আঙুলের সামান্য চাপ। আর সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকার সরিয়ে জ্বলে ওঠে বাল্ব। এই কাজটা আমরা প্রতিদিন কতবার করি, তার হিসাব নেই। তাই এর পেছনের গল্পটা নিয়ে আর মাথা ঘামাই না। কিন্তু কখনো ভেবেছেন, সুইচ আর মাথার ওপর ঝোলানো বাল্বের মধ্যে আসলে কী ঘটে যায় এত দ্রুত?

সুইচ কী কাজ করে

সুইচ যখন বন্ধ থাকে, তখন তার ভেতরের ধাতব অংশ দুটো আলাদা হয়ে থাকে। বিদ্যুৎ তখন ঘর পর্যন্ত এসেও এগোতে পারে না। মাঝপথে আটকে যায়।

সুইচে চাপ দিলেই ভেতরের ওই দুটো ধাতব অংশ একসঙ্গে জোড়া লেগে যায়। তৈরি হয় একটা পুরো পথ, যাকে বলে সার্কিট। আর এই পথ তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ পেয়ে যায় চলার রাস্তা।

বিদ্যুৎ কতটা দ্রুত ছোটে

মনে প্রশ্ন আসতেই পারে, দূরের খুঁটি বা মেইন বোর্ড থেকে বিদ্যুৎ কি এসে পৌঁছাতে সময় নেয় না? তারের ভেতর ইলেকট্রন নিজে অতটা জোরে ছোটে না ঠিকই, কিন্তু বিদ্যুতের সংকেত ছোটে সেকেন্ডে প্রায় এক থেকে দুই লাখ কিলোমিটার বেগে। এটা আলোর গতির প্রায় অর্ধেক থেকে প্রায় পুরোটাই। তাই সুইচ টেপার মুহূর্তেই আলো জ্বলে যায়। এত অল্প সময়ে ঘটে যায় এই ঘটনা যে চোখ বা মাথা কিছু টেরই পায় না।

বাল্বের ভেতরে তখন কী হয়

বিদ্যুৎ বাল্বে ঢোকার পর কী ঘটে, তা নির্ভর করে বাল্বের ধরনের ওপর। পুরোনো ধরনের বাল্বে থাকে চিকন টাংস্টেন তার। বিদ্যুৎ সেই তার দিয়ে গেলে তারটা প্রচণ্ড গরম হয়ে যায়। সেই গরম থেকেই বের হয় সাদা আলো।

আজকালকার এলইডি বাল্বে থাকে ছোট্ট চিপ। বিদ্যুৎ পেলে চিপের ভেতরের ইলেকট্রন সরাসরি আলো ছড়ায়। তাপ নষ্ট হয় না বললেই চলে। এ কারণেই এলইডি বাল্ব বিদ্যুৎ কম খায়।

সুইচ বন্ধ থাকলেও বিদ্যুৎ কি খরচ হয়

সাধারণ লাইট বা ফ্যানের ক্ষেত্রে উত্তর হলো, না। সুইচ বন্ধ মানে সংযোগই বিচ্ছিন্ন। তাই বিদ্যুৎ যাওয়ার কোনো পথ থাকে না।

তবে স্মার্ট বাল্ব বা রিমোট চালিত ফ্যানের গল্পটা একটু আলাদা। দেওয়ালের সুইচ চালু রেখে শুধু রিমোট দিয়ে বন্ধ করলে সামান্য বিদ্যুৎ ঠিকই খরচ হয়। এর কারণ, যন্ত্রের ভেতরের সেন্সর বা ওয়াইফাই যন্ত্রাংশ সব সময় জেগে থাকে, যাতে রিমোটের সংকেত ধরতে পারে। একে বলে ফ্যান্টম লোড। এতে খরচ হয় খুবই সামান্য, মাত্র শূন্য দশমিক দুই থেকে শূন্য দশমিক পাঁচ ওয়াটের মতো।

মাঝরাতে হুট করে বাল্ব কেটে যায় কেন

দিনের বেলা বা সন্ধ্যায় সবার ঘরে এসি, ফ্রিজ, টিভি চালু থাকে। কলকারখানাও চলে। এতে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে বেশি, আর লাইনের ভোল্টেজ থাকে মোটামুটি স্থির।

কিন্তু গভীর রাতে বেশিরভাগ মানুষ ঘুমিয়ে পড়েন। কারখানাও বন্ধ থাকে। তখন বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ কমে যায়। এতে লাইনে ভোল্টেজ বেড়ে যায় অনেকটাই। যেসব বাল্ব আগে থেকেই একটু দুর্বল হয়ে ছিল, তারা এই বাড়তি চাপ সহ্য করতে না পেরে কেটে যায়।

মজার কথা হলো, বেশিরভাগ বাল্ব জ্বলতে জ্বলতে কাটে না। কাটে ঠিক সুইচ অন করার মুহূর্তে। বাল্ব বন্ধ থাকলে তার ভেতরের ফিলামেন্ট থাকে ঠাণ্ডা। সুইচ অন করার সঙ্গে সঙ্গে সেই ফিলামেন্টে মুহূর্তে তৈরি হয় হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো তাপ। এই হঠাৎ গরম হওয়ার ধাক্কা দুর্বল ফিলামেন্ট সইতে পারে না। ফলে ছিঁড়ে বা পুড়ে যায়।

আরেকটা কারণও আছে। কাঁচের শেড দিয়ে ঢাকা ফিকশ্চারে সাধারণ এলইডি বাল্ব লাগালে ভেতরে বাতাস চলাচল করতে পারে না। ফলে জ্বলার সময় তৈরি হওয়া তাপ ভেতরেই আটকে থাকে। এই তাপে বাল্বের চিপ বা ড্রাইভার একসময় নষ্ট হয়ে যায়।

সুইচ বন্ধ থাকলে সাধারণ বাল্ব বা ফ্যানে বিদ্যুৎ অপচয় হয় না, এটা নিশ্চিন্ত থাকুন। আর মাঝরাতে বাল্ব কাটার আসল কারণ হলো লাইনের হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ভোল্টেজ। প্রতিদিনের এই ছোট্ট সুইচ টেপাটাই আসলে আমাদের জীবনকে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে আসে, প্রতিবার, নিঃশব্দে।

আরও পড়ুন