EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

যে কারণে বাসের রং হলো ‘গোলাপি’

দূর থেকে সহজে চেনা এবং বিশ্বজুড়ে নারী নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে বিআরটিসির নতুন বাসের রং গোলাপি রাখা হয়েছে

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

যে কারণে বাসের রং হলো ‘গোলাপি’

১৮ আগস্ট থেকে ঢাকার সড়কে নামছে বিআরটিসির বিশেষ ‘পিংক বাস’। সম্পূর্ণ নারী চালক ও কন্ডাক্টর দ্বারা পরিচালিত এই বাসের মূল থিম রাখা হয়েছে গোলাপি।

অ অ

ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিন বাসে উঠতে গিয়ে নারী যাত্রীদের নানা ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়। ভিড় ঠেলে বাসে ওঠা কিংবা ভেতরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো—সব মিলিয়ে গণপরিবহনে নারীদের যাতায়াত বেশ কঠিন। এই কঠিন বাস্তবতাকে সহজ করতে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) থেকে রাজধানীর সড়কে নামছে বিআরটিসির বিশেষ ‘পিংক বাস’ বা গোলাপি বাস।

এই বাসের সবচেয়ে বড় চমক হলো, এর চালক এবং কন্ডাক্টর—উভয় দায়িত্বেই থাকবেন নারীরা। আর বাসগুলো শুধু নারী যাত্রীদের জন্যই সংরক্ষিত থাকবে। তবে বাস চালুর ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এত রং থাকতে বাসের রং কেন গোলাপি করা হলো?

দূর থেকেই সহজে চিনে নেওয়ার সুবিধা

একটি ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ডে যখন একসঙ্গে অনেকগুলো বাস এসে দাঁড়ায়, তখন কোন বাসটি নারীদের জন্য, তা দূর থেকে লেখা পড়ে বোঝা বেশ কঠিন। গোলাপি রঙের কারণে নারী যাত্রীরা ভিড়ের মধ্যেও দূর থেকে খুব সহজে তাদের বাসটি চিনে নিতে পারবেন। একই সাথে পুরুষ যাত্রীরাও দূর থেকে দেখেই বুঝতে পারবেন যে এই বাসে তাদের ওঠার নিয়ম নেই। ফলে অযথা ভুল বাসে ওঠা বা বিভ্রান্তি তৈরি হবে না।

বিশ্বজুড়ে নারী নিরাপত্তা ও সচেতনতার প্রতীক

গোলাপি রং বিশ্বব্যাপী নারী ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত। যেমন—স্তন ক্যানসার সচেতনতায় বিশ্বজুড়ে ‘পিংক রিবন’ বা গোলাপি ফিতা ব্যবহার করা হয়। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারীদের বিশেষ সেবায় এই রঙটি ব্যবহার করা হয়েছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের ‘পিংক অটো’ কিংবা মেক্সিকোর নারীবান্ধব ট্যাক্সি সার্ভিস এর বড় উদাহরণ। বিআরটিসি মূলত সেই আন্তর্জাতিক চেনা রূপটিকেই বেছে নিয়েছে।

মনের ভেতর স্বস্তি ও সুরক্ষার অনুভূতি

গোলাপি রঙটি মানুষের মনে এক ধরণের শান্ত ও নিরাপদ অনুভূতি তৈরি করে। প্রতিদিন যাতায়াতের সময় নারীরা যে মানসিক চাপে থাকেন, বাসের এই চেনা রঙের আবহ তাদের ভেতরের সেই ভয় দূর করতে সাহায্য করবে। বাসে উঠলেই তারা যেন একটি ঘরোয়া এবং নিরাপদ পরিবেশ পান, সেটাই এই রঙের অন্যতম উদ্দেশ্য।

নারীর অধিকার ও স্বাবলম্বিতার নতুন বার্তা

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বাসের রঙের চেয়েও অনেক গভীর। চালক থেকে শুরু করে টিকিট চেকার—সব পদে নারীদের বসিয়ে বিআরটিসি প্রমাণ করেছে যে নারীরা আর পিছিয়ে নেই। গোলাপি রং এখানে কেবলই একটি চাক্ষুষ পরিচয় বা ব্র্যান্ডিং, যা পুরো উদ্যোগটিকে সাধারণ মানুষের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে পৌঁছে দিচ্ছে।

কোন কোন রুটে চলবে এই গোলাপি বাস?

প্রাথমিকভাবে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ রুটে এই বাসগুলো চলাচল করবে। 

মোহাম্মদপুর থেকে মতিঝিল: মোহাম্মদপুর, শংকর, ধানমন্ডি, নিউ মার্কেট ও শাহবাগ হয়ে মতিঝিল রুটে বাস চলবে।

আব্দুল্লাহপুর থেকে মতিঝিল: আব্দুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, কুড়িল বিশ্বরোড, মহাখালী ও ফার্মগেট হয়ে মতিঝিল রুটে যাতায়াত করবে জোয়ারসাহারা ডিপোর বাস।

গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর: গাজীপুর চৌরাস্তা, বোর্ডবাজার ও আব্দুল্লাহপুর হয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত মিলবে এই সেবা।

ঢাকার রাস্তায় এই ‘গোলাপি বাস’ কেবল রঙের বৈচিত্র্যই আনবে না, বরং নিশ্চিত করবে কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নারীযাত্রীদের প্রতিদিনের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ যাত্রা। একটি আধুনিক ও সমতাভিত্তিক শহর গড়ে তোলার পথে এটি একটি দারুণ পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন