EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

পাত্রীপক্ষের মন জয়ে সাংবাদিকদের ৫টি ‘ইনভেস্টিগেটিভ’ কৌশল

বেতন কম, ডিউটির ঠিক নেই—তবু পাত্রীপক্ষের মন জয়ে সাংবাদিক পাত্ররা এখন কাজে লাগাচ্ছেন নিজেদের পেশাগত ‘সোর্স’ আর উপস্থিত বুদ্ধি

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:২১ পিএম

পাত্রীপক্ষের মন জয়ে সাংবাদিকদের ৫টি ‘ইনভেস্টিগেটিভ’ কৌশল

বিয়ের বাজারে নিজের ‘টিআরপি’ বাড়াতে সাংবাদিক পাত্ররা এখন ভরসা রাখছেন পেশাগত বুদ্ধি আর রসবোধে (প্রতীকী ছবি)।

অ অ

বাজারে সব জিনিসের দাম বাড়লেও বিয়ের বাজারে সাংবাদিকদের ‘ডিমান্ড’-এ সবসময়ই একটা মৃদু মন্দাভাব। সরকারি চাকরিজীবী বা মাল্টিন্যাশনাল এক্সিকিউটিভদের ভিড়ে সাংবাদিক পাত্রদের বায়োডাটা অনেক সময় পড়ে থাকে ‘স্প্যাম’ ফোল্ডারেই। পাত্রীপক্ষের মূল আপত্তি— ‘আপনাদের তো দিন-রাতের ঠিক নেই, বেতনও বড্ড সীমিত!’

কিন্তু মাঠপর্যায়ের ইনভেস্টিগেশন ছেড়ে নিজের বিয়ের বাজারে একটু ‘সোর্স’ খাটালেই পরিস্থিতি পুরো উল্টে যেতে পারে। শ্বশুরপক্ষের মন জয়ে রিপোর্টার ও সাবএডিটর পাত্ররা যে কৌশলগুলো অবলম্বন করতে পারেন—

পাত্রীপক্ষ যখনই বলবে, ‘আপনার তো ফেরার ঠিক নেই, সংসার কখন করবেন?’—তখনই মুখে ফুটিয়ে তুলুন প্রশিক্ষিত পেশাদার হাসি। বোঝান, এটি আসলে সুবিধা! ‘আঙ্কেল, আমি অফিসে থাকলে আপনার মেয়ে একাই পুরো ঘরের রিমোট কন্ট্রোল করতে পারবে। ঘরে কম থাকা মানে ঝগড়ার সুযোগ শূন্য শতাংশ! আর চোর-ডাকাতও জানে সাংবাদিকদের ডিউটির ঠিক নেই, তাই আমাদের বাড়ির ধারেকাছে ঘেঁষার সাহস পাবে না।’

বেতন কত— এই প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া মাত্রই কৌশলে টপিক ঘুরিয়ে দিন। মানিব্যাগ ছোট হলেও আপনার সোর্স যে কত বড়, এটাই সেটা বোঝানোর সময়। বলুন, ‘বেতন দিয়ে কী হয় আঙ্কেল? পরশু ওসি সাহেবের সাথে চা খেলাম, গতকাল সচিবের সাথে কথা হলো। কাজ আটকে থাকলে বলবেন, একটা ফোনই যথেষ্ট।’ মনে রাখবেন—ওজনে কম দেওয়া মাছ বিক্রেতাও যাকে দেখে সোজা হয়ে দাঁড়ায়, সেই সামাজিক ক্ষমতাই বিয়ের বাজারের আসল ‘অ্যাসেট’।

ডেস্কে বসে থাকার আফসোস ভুলে নিজের ঐশ্বরিক এডিটিং ক্ষমতাকে ব্র্যান্ডিং করুন। বলুন, ‘আঙ্কেল, প্রতিদিন বাঘা বাঘা রিপোর্টারদের ভুল বানান সোজা করি আমি। আপনার মেয়ে রেগে গিয়ে ঝাড়ি মেরে টেক্সট পাঠালেও আমি রাগ না করে সেটার বানান-ব্যাকরণ ঠিক করে ‘শুদ্ধ রূপ’ ফেরত পাঠাব। এই ধৈর্য দিয়েই হবু শাশুড়ির যেকোনো খুঁতখুঁতানি হাসিমুখে সামলে নেব।’

সংসারের ঝগড়াঝাঁটি ঠান্ডা মাথায় সামলানোয় সাবএডিটররা যেকোনো কর্পোরেট ম্যানেজারের চেয়ে এগিয়ে। ‘রাত ১১টার ডেডলাইনের চাপের চেয়ে বেশি তীব্র কিছু সংসারে হবে না। বউ শপিংয়ে তিন ঘণ্টা দেরি করলেও মাথা গরম হবে না—রিপোর্টাররা এর চেয়েও বেশি দেরি করে নিউজ পাঠায়, সেটা সামলানোর ট্রেনিং তো আমার হাড়েমজ্জায়!’

বায়োডাটার সাথে প্রেস আইডি কার্ডের ঝকঝকে ছবি জুড়ে দিন, আর বুঝিয়ে দিন এটা সাধারণ প্লাস্টিক নয়। ‘আমাকে জামাই বানালে কোরবানির হাটে হাসিল ছাড়া গরু কেনা, জ্যামে ভিআইপি লেন দিয়ে যাওয়া, আর শ্যালক-শ্যালিকাদের জন্য যেকোনো কনসার্টের ফ্রন্ট রো টিকিট ফ্রি এনে দেওয়ার দায়িত্ব আমার।’ ব্যস, শ্যালক-শ্যালিকাদের ভোট বাক্সে নিশ্চিত!

মেয়ের বাবা ইন্টারভিউ নেওয়া শুরু করলে নিজের ইনভেস্টিগেটিভ জাদু দেখান। চা খেতে খেতে বলুন, ‘আঙ্কেল, আপনার ছোটবেলার ডাকনাম ‘পটু’ ছিল আর ক্লাস ফাইভের অংকে ডাব্বা মেরেছিলেন—জানি আমি।’ পাত্রীপক্ষ বুঝে যাবে, এই ছেলের হাত থেকে বাঁচার উপায় নেই—আর ভয়ে-সম্মানে দ্রুত বিয়ের ডেট পাকা করে ফেলবে।

বিয়ের বাজারটা আসলে একটি ‘লাইভ অ্যাসাইনমেন্ট’। এখানে নার্ভাস হওয়া চলবে না। ক্যামেরা ফেস করার বা কপির ভুল ধরার মতোই আত্মবিশ্বাসের সাথে পাত্রীপক্ষের মুখোমুখি হোন—কারণ ব্রেকিং নিউজ যেমন হুট করে আসে, আপনার বিয়ের সানাইও তেমনি যেকোনো সময় বেজে উঠতে পারে!

আরও পড়ুন