EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

ক্যাডার হওয়ার পরেও কেন বারবার পরীক্ষার আসনে বসছেন অনেকে?

ক্যাডার হয়েও ফের বিসিএস— বিতর্কে নীতিমালা

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৯ এএম

ক্যাডার হওয়ার পরেও কেন বারবার পরীক্ষার আসনে বসছেন অনেকে?

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

৪৬তম বিসিএসে প্রথম ভাইভাতেই পুলিশ ক্যাডার পেয়েছিলেন মো. সোলায়মান হোসেন। এরপর ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ইচ্ছাকৃতভাবে ভাইভায় যাননি তিনি। কারণ হিসেবে বলেছেন, 'আমার একটি আসন হয়তো অন্য কারও বহু বছরের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।' সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। হাজারো মানুষ তাঁর এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

কিন্তু সোলায়মানের এই উদারতাই একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে— যদি একজন সচেতন মানুষ নিজে থেকে সরে না দাঁড়াতেন, তাহলে কি সিস্টেমে এই সুযোগ নেওয়া বন্ধ করার কোনো ব্যবস্থা আছে? উত্তরটা হতাশাজনক— নেই।

বিসিএস ভাইভা দিতে গিয়ে সোলায়মান নিজেই দেখেছিলেন, পিএসসির সামনে অপেক্ষায় থাকা মানুষদের মধ্যে এমনও ছিলেন যাঁরা ইতোমধ্যে ক্যাডার হয়েও আবার ভাইভা দিতে এসেছেন— শুধু দুবার ক্যাডার হওয়ার আনন্দ উপভোগের জন্য। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিসিএস পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন ফোরাম ও গ্রুপে এই প্রবণতার কথা বারবার উঠে আসে। ইতোমধ্যে সরকারি চাকরিতে থাকা, এমনকি ক্যাডার হয়ে যাওয়া অনেকেই প্রতিটি বিসিএসে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন।

একদিকে লাখো তরুণ বছরের পর বছর ঘুম বিসর্জন দিয়ে, পরিবারের স্বপ্ন বুকে নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে যাঁরা ইতোমধ্যে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন, তাঁরাও একই আসনের প্রতিযোগিতায় নামছেন। সোলায়মানের ভাষায়— 'একজনের কাছে যা বিলাসিতা, অন্যজনের কাছে তা জীবন-মরণের প্রশ্ন।'

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসির বর্তমান নীতিমালায় ক্যাডার হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় বিসিএসে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ নয়। বয়সসীমার মধ্যে থাকলে যে কেউ যতবার খুশি পরীক্ষায় বসতে পারবেন— এটাই বিদ্যমান নিয়ম। ফলে যোগ্যতা থাকলে একজন ক্যাডার অফিসারও চাইলে পরের বিসিএসে অংশ নিতে পারেন, আইনত কোনো বাধা নেই।

কিন্তু প্রশ্ন হলো— আইনত বাধা না থাকলেই কি নৈতিকভাবে সেটা সঠিক? যে দেশে প্রতিটি বিসিএসে গড়ে তিন থেকে পাঁচ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেন এবং ক্যাডার পদ পান মাত্র কয়েক হাজার জন, সেখানে একটি আসনের মূল্য কতটা— তা সহজেই অনুমেয়।

এই সমস্যার সমাধানে পিএসসির নীতিমালায় সংশোধন আনা জরুরি। ক্যাডার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পর পুনরায় বিসিএসে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হলে প্রকৃত প্রার্থীদের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে যাঁরা ইতোমধ্যে সরকারি চাকরিতে আছেন, তাঁদের জন্যও আলাদা নীতিমালা তৈরি করা উচিৎ।

পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার প্রশ্নও সামনে আসছে। সোলায়মানের মতো যদি আরও অনেকে সচেতনভাবে এই সিদ্ধান্ত নিতেন, তাহলে হয়তো নিয়মের পরিবর্তনের অপেক্ষা না করেও পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতো।

৪৭তম বিসিএসের ফল প্রকাশের দিন সোলায়মান সুপারিশপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে একটি আহ্বান রেখেছেন— যাঁরা এবার প্রথম পছন্দের ক্যাডার পেয়ে গেছেন, তাঁরা যেন পরবর্তী বিসিএসের ভাইভায় না যান। ছোট এই আহ্বান আসলে একটি বড় বার্তা বহন করছে।

বিসিএস স্বপ্নের পরীক্ষা। লাখো তরুণের ঘামে-রক্তে-অশ্রুতে লেখা এই স্বপ্ন যেন কারও বিলাসিতার খোরাক না হয়— এটুকু নিশ্চিত করা কি খুব বেশি চাওয়া?

আরও পড়ুন