EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

ফেসবুক নয়, অধিকাংশ বড় তারকার প্রথম পছন্দ কেন ইনস্টাগ্রাম?

একই প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের ফেসবুক প্রীতির বিপরীতে তারকাদের ‘ইনস্টাগ্রাম ক্রেজ’- এর ভেতরের গল্প

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:১৩ এএম

ফেসবুক নয়, অধিকাংশ বড় তারকার প্রথম পছন্দ কেন ইনস্টাগ্রাম?

সাধারণ মানুষের ফেসবুক প্রীতির বিপরীতে বিশ্বজুড়ে তারকাদের প্রথম পছন্দ এখন ইনস্টাগ্রাম। ছবি: সান গ্রাফিক

অ অ

বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি থেকে শুরু করে পপ তারকা আরিয়ানা গ্রান্দে কিংবা ক্রিকেটের কিংবদন্তি বিরাট কোহলি— বিশ্বের শীর্ষ তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোর দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট। তারা ফেসবুকে যতটা না সক্রিয়, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি সময় কাটান ইনস্টাগ্রামে।

মজার ব্যাপার হলো, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম— দুটি প্ল্যাটফর্মেরই মূল মালিক মার্ক জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠান ‘মেটা’। একই কোম্পানির হওয়া সত্ত্বেও কেন বিশ্বের নামী-দামী তারকারা ফেসবুককে এক পাশে সরিয়ে ইনস্টাগ্রামকে তাদের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন? এর পেছনে রয়েছে কিছু মনস্তাত্ত্বিক, বাণিজ্যিক এবং কারিগরি কারণ।

ইনস্টাগ্রাম মূলত ছবি এবং ছোট ভিডিও (রিলস) ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। এখানে টেক্সট বা লেখার চেয়ে ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট বেশি প্রাধান্য পায়। তারকাদের লাইফস্টাইল, ফ্যাশন, শুটিংয়ের পেছনের গল্প কিংবা জিম সেশনের খণ্ডচিত্র ফ্যানরা দেখতে চান। ফেসবুকে লেখা, লিংক বা নানা হিজিবিজি তথ্যের যে ছড়াছড়ি থাকে, ইনস্টাগ্রামে তা নেই। এর ছিমছাম ইন্টারফেস একজন তারকার গ্ল্যামারকে অত্যন্ত প্রিমিয়াম লুকে ফুটিয়ে তোলে, যা তাদের একটি চমৎকার ‘ডিজিটাল পোর্টফোলিও’ তৈরিতে সাহায্য করে।

ফেসবুকের চেয়ে ইনস্টাগ্রামে তারকারা মানসিকভাবে অনেক বেশি শান্তিতে থাকেন। এর বড় কারণ, ইনস্টাগ্রামের সাইবার বুলিং বা কুৎসিত মন্তব্য ফিল্টারিং করার প্রযুক্তি অত্যন্ত শক্তিশালী। তারকারা চাইলেই অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য, গালি বা স্ক্যাম লিংক ছড়ানো পুরোপুরি ব্লক করে রাখতে পারেন। তা ছাড়া ইনস্টাগ্রামের সাধারণ ব্যবহারকারীরা ফেসবুকের তুলনায় কিছুটা পজিটিভ মানসিকতার হয়ে থাকেন, যা তারকাদের ট্রোলিংয়ের হাত থেকে বাঁচায়।

বর্তমান যুগে ব্র্যান্ডগুলোর কাছে ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিংয়ের জন্য এক নম্বর স্বর্গ হলো ইনস্টাগ্রাম। একই কোম্পানির হলেও ফেসবুকে একটি স্পন্সরড পোস্টের চেয়ে ইনস্টাগ্রাম পোস্টের আর্থিক মূল্য অনেক বেশি। উদাহরণস্বরূপ, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ইনস্টাগ্রামে একটিমাত্র স্পন্সরড পোস্ট করার জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার পেয়ে থাকেন। ব্র্যান্ডগুলো খুব ভালো করেই জানে যে, উচ্চবিত্ত ও ফ্যাশন-সচেতন ক্রেতারা ইনস্টাগ্রামে বেশি সক্রিয়। তাই তারা তারকাদের ইনস্টাগ্রামের পেছনেই কোটি কোটি টাকা ঢালে।

বিশ্বজুড়েই ফেসবুকের ব্যবহারকারীদের গড় বয়স দিন দিন বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে ‘জেন-জি’ এবং মিলেনিয়ালরা এখন ফেসবুক ছেড়ে ইনস্টাগ্রামে দিনরাত কাটাচ্ছে। যেকোনো তারকার ক্যারিয়ার দীর্ঘস্থায়ী করতে এবং তাদের ট্রেন্ডে টিকিয়ে রাখতে তরুণ ফ্যানবেস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর এই তরুণদের কাছে পৌঁছানোর সবচেয়ে সহজ রাস্তা হলো ইনস্টাগ্রাম।

ফেসবুককে অনেক তারকা ‘সবার জন্য উন্মুক্ত সাধারণ বাজারের’ মতো মনে করেন, যেখানে রাজনীতি, আত্মীয়-স্বজন, ট্রোল পেজ আর খবরের ভিড়ে নিজেদের এক্সক্লুসিভিটি বা আভিজাত্য হারিয়ে যায়। অন্যদিকে ইনস্টাগ্রামের একটা ‘প্রিমিয়াম’ বা এলিট ইমেজ আছে। সেখানে তারকারা নিজেদের সাধারণের চেয়ে একটু আলাদা বা এক্সক্লুসিভ লুকে উপস্থাপন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

মূলত মেটা কোম্পানিও তাদের অ্যালগরিদম ও ফিচারগুলোকে সেভাবেই সাজিয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ ফেসবুকে মজে থাকলেও সেলিব্রেটি বা ইনফ্লুয়েন্সাররা ইনস্টাগ্রামকেই তাদের মূল আস্তানা বানিয়ে নেন।

আরও পড়ুন