ছবি: সংগৃহীত
আর মাত্র কয়েকটি দিন। তারপরই আসছে ত্যাগ ও ভালোবাসার মহান উৎসব ঈদুল আজহা। ২৮ মে সারা দেশে পালিত হবে কোরবানির ঈদ। মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজ, পাড়ায় পাড়ায় কোরবানির আয়োজন আর স্বজনদের সঙ্গে একসাথে বসে খাওয়া- এই মিলনের উৎসবে মেতে উঠবে গোটা দেশ।
ঈদুল আজহার শিকড় প্রোথিত আছে হজরত ইবরাহিম (আ.)- এর অতুলনীয় ত্যাগের ইতিহাসে। আল্লাহর নির্দেশে তিনি তাঁর প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)- কে কোরবানি দিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। সেই অসীম আনুগত্য ও ত্যাগের স্মরণেই বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান প্রতি বছর পালন করেন এই উৎসব। কোরবানির পশু জবাই কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আত্মার ভেতরে লালন করা লোভ, অহংকার ও কুপ্রবৃত্তিকে বিসর্জন দেওয়ার প্রতীক।
ঈদুল আজহা মানেই ঘরে ফেরার আকুলতা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহর থেকে লাখো মানুষ ছুটে যান নিজের শিকড়ের কাছে। বাস, ট্রেন, লঞ্চ- সব পথেই তখন মানুষের ঢল। পথের কষ্ট ভুলে যায় প্রিয়জনের মুখ দেখার আনন্দে। গ্রামের বাড়িতে মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার এই আনন্দই ঈদকে করে তোলে অনন্য।
ঈদুল আজহার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ কোরবানির পশুর হাট। হাটে গিয়ে পছন্দের গরু, ছাগল বা মহিষ কেনার আনন্দই আলাদা। শিশুরা বায়না ধরে হাটে যাওয়ার জন্য। বড়রাও মেতে ওঠেন দরদামে। এবার সারা দেশের হাটে কোরবানির পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।
ভাগাভাগিতেই আসল আনন্দ
কোরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করার বিধান ইসলামের এক অনন্য সামাজিক শিক্ষা। এক ভাগ নিজের পরিবারের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনের জন্য এবং এক ভাগ গরিব-দুঃখীদের জন্য। এই ভাগাভাগির মধ্য দিয়েই সমাজে তৈরি হয় সাম্য ও সহমর্মিতার বন্ধন। যে মানুষটি সারা বছর মাংসের স্বাদ পান না, ঈদের দিন তার ঘরেও পৌঁছে যায় কোরবানির অংশ।
ঈদুল আজহায় রান্নাঘর হয়ে ওঠে উৎসবের কেন্দ্র। কাচ্চি বিরিয়ানি, গরুর রেজালা, বোটি কাবাব, শিক কাবাব, নেহারি- কোরবানির মাংসে তৈরি এসব পদের সুগন্ধে ভরে ওঠে পুরো বাড়ি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলা রেসিপিগুলো এই দিনে নতুন করে জীবন পায়। নানীর হাতের রান্না খেতে বসে পরিবারের সবাই একসাথে- এই দৃশ্যটিই ঈদের সবচেয়ে সুন্দর ছবি।
শিশুদের কাছে ঈদুল আজহার আনন্দ একটু ভিন্ন। নতুন জামা, সালামি, আর কোরবানির পশু দেখার উত্তেজনায় তারা থাকে উদ্বেলিত। ঈদের রাত থেকেই তাদের ঘুম হয় না। ভোর হতে না হতেই নতুন জামা পরে ছুটে যায় ঈদগাহে। কোরবানির সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকার আগ্রহও কম নয় তাদের।
ঈদের আনন্দ যেন কেবল সচ্ছলদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। পাশের বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিশুটিও যেন নতুন জামা পায়, কোরবানির মাংসের ভাগ পায়- এই চেতনাই ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা। ত্যাগের এই উৎসবে প্রতিবেশীর খোঁজ নিন, অসহায়কে সাহায্য করুন। তাহলেই সার্থক হবে কোরবানির আসল উদ্দেশ্য।
ঈদ মোবারক।
-6a070476f383d.jpg)