EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঢেউয়ে কোথায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ?

শুধু প্রযুক্তি শেখা নয়, প্রযুক্তিকে সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করার সক্ষমতাই হবে আগামীর মূল যোগ্যতা।

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঢেউয়ে কোথায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ?

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাফি। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সে প্রথমে যা করে, তা হলো একটি চ্যাটবট খুলে দিনের পড়াশোনার পরিকল্পনা তৈরি করা। থিসিসের কঠিন অধ্যায়গুলো বোঝার জন্য সে একটি এআই টুল ব্যবহার করে, আর কোডিংয়ের সমস্যা সমাধানেও সাহায্য নেয় মেশিনের কাছ থেকে। 

রাফির মতো লাখ লাখ তরুণের কাছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এখন আর কল্পবিজ্ঞানের কোনো চরিত্র নয়, এটি তাদের দৈনন্দিন সহযাত্রী।

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির যে ঢেউ উঠেছে, তার কেন্দ্রে আছে এআই। ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদের ভাষায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর কল্পবিজ্ঞানের বিষয় নয়; এটি স্বাস্থ্যসেবা, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

তবে সুযোগের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও কম নয়। জেনারেটিভ এআইয়ের দ্রুত বিকাশ যেমন নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে, তেমনি কর্মসংস্থান, নৈতিকতা ও ডেটা নিরাপত্তা সম্পর্কিত নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ এর বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী। এই বিশালসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে তারা দেশের উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।

ইতোমধ্যে এই লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ শুরু হয়েছে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ‘এআই অলিম্পিয়াড ২০২৫’- এ স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত তিনটি স্তরে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য তরুণ শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যা সমাধানে উদ্ভাবনী চিন্তায় উৎসাহিত করা।

শ্রেণিকক্ষের চেহারাও বদলে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয়তা অনুসারে কোর্স সাজানো, তাদের দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং সেই অনুযায়ী মতামত দেওয়ার কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষকদের জন্য ট্যাবলেট ও কম্পিউটার সরবরাহ, ডিজিটাল কারিকুলাম প্রণয়ন এবং মাল্টিমিডিয়া-সমৃদ্ধ শ্রেণিকক্ষ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে কেবল যন্ত্রের উপর নির্ভর করলেই চলবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা হলেই যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি উঠে আসে তা হলো, প্রযুক্তির এই উন্নতির কারণে অনেক মানুষ চাকরি হারাচ্ছেন এবং আরও অনেকেই হারাবেন।

অর্থাৎ, শুধু প্রযুক্তি শেখা নয়, প্রযুক্তিকে সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করার সক্ষমতাই হবে আগামীর মূল যোগ্যতা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে গবেষণা ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করা জরুরি।

একই সঙ্গে নৈতিকতার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ডেটা নিরাপত্তা, নৈতিকতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

রাফির মতো তরুণরা কিন্তু হতাশ নয়। তারা জানে, এআই তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং হাতিয়ার। প্রশ্নটা শুধু একটাই- এই হাতিয়ার ব্যবহার করার দক্ষতা কি আমরা সময়মতো অর্জন করতে পারব?

আরও পড়ুন