EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

এআই চ্যাটবট: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপটে কি ফিকে হচ্ছে মানুষের সামাজিক দক্ষতা?

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এআই-এর ওপর অতি-নির্ভরতা মানুষের ধৈর্য ও সামাজিক দক্ষতা কমিয়ে দিচ্ছে।

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম

এআই চ্যাটবট: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপটে কি ফিকে হচ্ছে মানুষের সামাজিক দক্ষতা?

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

সকালে ঘুম থেকে উঠে মেইল লেখা থেকে শুরু করে একাকীত্বের সময়ে গল্প করা- সবই এখন দখল করে নিয়েছে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চ্যাটবট। প্রযুক্তির এই জয়যাত্রায় আমাদের কাজ সহজ হলেও মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীরা দেখছেন এক অশনিসংকেত।

মানুষের সাথে মানুষের যে সহজাত সামাজিক যোগাযোগ ও আবেগীয় আদান-প্রদান, তা কি ধীরে ধীরে যান্ত্রিক হয়ে পড়ছে? সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এআই-এর ওপর অতি-নির্ভরতা মানুষের ধৈর্য ও সামাজিক দক্ষতা কমিয়ে দিচ্ছে।

মানুষের সাথে কথা বলার সময় আমরা একে অপরের চোখের ভাষা, কণ্ঠের ভঙ্গি এবং আবেগ বুঝতে চেষ্টা করি। কিন্তু চ্যাটবটের সাথে আলাপে এসবের প্রয়োজন পড়ে না। চ্যাটবট সবসময় বিনয়ী, চটজলদি উত্তর দেয় এবং কোনো পাল্টা প্রশ্ন বা তর্ক করে না। ফলে ব্যবহারকারীরা এমন এক ‘যোগাযোগ বলয়ে’ অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন যেখানে কোনো মতভেদ নেই। বাস্তবে মানুষের সাথে কথা বলতে গিয়ে যখন সামান্য দ্বিমত বা আবেগীয় জটিলতা তৈরি হচ্ছে, তখন অনেকেই খিটখিটে হয়ে পড়ছেন অথবা যোগাযোগ এড়িয়ে চলছেন।

এআই চ্যাটবট মুহূর্তের মধ্যে যেকোনো সমস্যার সমাধান দিয়ে দিচ্ছে। এই ‘ইনস্ট্যান্ট গ্র্যাটিফিকেশন’ বা দ্রুত প্রাপ্তির নেশা আমাদের ধৈর্য কমিয়ে দিচ্ছে। বাস্তব জীবনে একজনের কথা মন দিয়ে শোনা বা দীর্ঘ আলাপচারিতার মাধ্যমে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। ফলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সামনাসামনি কথা বলার চেয়ে টেক্সট বা চ্যাটবটে কাজ সারিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী একাকীত্বের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এখন অনেক চ্যাটবট মানুষের হয়ে ইমেইল, মেসেজ এমনকি প্রেমের চিঠিও লিখে দিচ্ছে। এতে করে নিজের আবেগ ভাষায় প্রকাশ করার যে সৃজনশীল ক্ষমতা, তা হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষ যখন তার চিন্তা প্রকাশের দায়িত্ব মেশিনের ওপর ছেড়ে দেয়, তখন তার নিজস্ব ব্যক্তিত্ব ও মৌলিকতা লোপ পায়। ফলে সামাজিক অনুষ্ঠানে বা সরাসরি সভায় অনেকের মধ্যেই এখন জড়তা কাজ করছে।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এআই আমাদের সহকারী হওয়া উচিত, বিকল্প নয়। চ্যাটবট আমাদের তথ্য দিতে পারে, কিন্তু তা কখনোই একজন বন্ধুর সহমর্মিতা বা পরিবারের সদস্যের স্নেহের বিকল্প হতে পারে না। সামাজিক দক্ষতা একটি পেশির মতো; এটি যত চর্চা করা হবে, তত শক্তিশালী হবে। চ্যাটবটের ভার্চুয়াল জগতে বন্দি থাকলে বাস্তব জগতের জটিল ও সুন্দর সম্পর্কগুলো ফিকে হয়ে যাবে।

প্রযুক্তির উৎকর্ষকে অস্বীকার করার উপায় নেই, তবে মনে রাখতে হবে- মানুষ সামাজিক জীব। যন্ত্রের সাথে নিখুঁত আলাপের চেয়ে মানুষের সাথে অগোছালো কিন্তু আবেগপূর্ণ আলাপই আমাদের প্রকৃত পরিচয় ধরে রাখে। তাই স্মার্টফোনের স্ক্রিনের বাইরেও মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার অভ্যাস ধরে রাখা এখন সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুন