ঈদের আনন্দ কি তবে কেবলই পোশাকে?
উৎসবের আড়ম্বরে আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে, ঈদের সার্থকতা দামী ব্র্যান্ডের প্রদর্শনীতে নয়; বরং প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো আন্তরিক মুহূর্তেই উৎসব প্রাণ পায়।
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
‘উৎসবের পূর্ণতা দামী ব্র্যান্ডে নয়, বরং প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো আন্তরিক মুহূর্তেই।’ ছবি: কবির হোসেন
রমজানের ক্যালেন্ডার থেকে একে একে পঁচিশটি দিন বিদায় নিয়েছে। সিয়াম সাধনার তৃপ্তি ছাপিয়ে এখন সবার মনে ঈদের আনন্দ। সেই আনন্দকে পূর্ণতা দিতে রাজধানী থেকে মফস্বল- সর্বত্রই এখন কেনাকাটার ধুম। তবে বিপণিবিতানগুলোর ভিড় ঠেলে ভেতরে তাকালে দেখা যায় সমাজের তিন স্তরের মানুষের তিন ভিন্ন বাস্তবতার ছবি।
বাজারে সবচেয়ে অবাক করা দৃশ্যটি দেখা যাচ্ছে নিম্নবিত্তের সারিতে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারেও তাদের স্বল্প আয়ে কেনা সামান্য উপহারটুকুই যেন পরম পাওয়া। ফুটপাত বা সাধারণ দোকানে কেনাকাটা শেষে তাদের মুখে যখন ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ধ্বনি শোনা যায়, তখন সেই প্রাপ্তির আনন্দ ছাপিয়ে যায় অনেক কিছুকেই।
অন্যদিকে, উচ্চবিত্তের কেনাকাটায় চলছে যেন এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা। বড় বড় শপিং মল আর নামি ব্র্যান্ডের আউটলেটে তাদের মন্ত্র একটাই- ‘পছন্দ হলেই কিনে ফেলো’। দাম সেখানে গৌণ, বিলাসিতা আর আভিজাত্য প্রদর্শনীই যেখানে মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি ‘খাবি’ খাচ্ছে মধ্যবিত্ত শ্রেণি। তাদের সংকটটি বেশ পুরোনো কিন্তু অমীমাংসিত। বাজারে ঘুরতে থাকা একজন মধ্যবিত্ত ক্রেতার দীর্ঘশ্বাস বলছে, ‘পছন্দ হলে বাজেট মেলে না, আর বাজেট মিললে পছন্দ হয় না।’ আভিজাত্য বজায় রাখার চেষ্টা আর পকেটের সীমাবদ্ধতার মাঝে তাদের ঈদের আনন্দ যেন এক নিরন্তর আপসের গল্প।
গত ২০ বছরে মানুষের আয় যতটা বেড়েছে, তার চেয়ে জ্যামিতিক হারে বেড়েছে ব্যয়। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে অতিরিক্ত ফ্যাশন-সচেতনতা আর সোশ্যাল মিডিয়ার ‘সেলিব্রিটি লাইফস্টাইল’। উচ্চাভিলাষী ব্র্যান্ডের প্রতি অদম্য আকর্ষণ আমাদের সঞ্চয় করার মানসিকতাকে গিলে খাচ্ছে। অথচ আমরা অনেকেই জানি না, বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলো আসলে কীভাবে ব্যাবসা করে।
উৎসবের এই ডামাডোলে আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে, ঈদের প্রকৃত সার্থকতা দামী ব্র্যান্ডের লোগো প্রদর্শনীতে নেই। বরং পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কাটানো গুণগত সময় এবং আন্তরিকতাই উৎসবকে প্রাণবন্ত করে।
আয় বুঝে ব্যয় করার অভ্যাস গড়া না গেলে উৎসবের এই সাময়িক আনন্দ মাস শেষে বিষাদে রূপ নিতে পারে। ঋণের বোঝা বা অতিরিক্ত খরচ উৎসবের আমেজকে ফিকে করে দেয়।
পরিশেষে, এবার ঈদে ব্র্যান্ডের জৌলুস নয়, আনন্দ হোক অকৃত্রিম ও আন্তরিক। মনে রাখা জরুরি, আপনার দামি পোশাকের চেয়ে আপনার অকৃত্রিম হাসিটা যেন বেশি উজ্জ্বল হয়। কারণ, সেই হাসিতেই লুকিয়ে থাকে ঈদের আসল সার্থকতা।