EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

নারী দিবসের আলো পৌঁছায় না যাদের ঘরে

নারীর শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন ও মজুরি বৈষম্য দূর করতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন কঠিন হবে।

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

নারী দিবসের আলো পৌঁছায় না যাদের ঘরে

ইট ভাঙা থেকে রিকশা চালানো- সবখানেই নারীর পদচারণা থাকলেও তাদের ন্যায্য পাওনা ও মর্যাদা আজও রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ছবি: আব্দুল্লাহ আল মমীন

অ অ

ভোর হওয়ার আগেই তাদের দিন শুরু হয়। উনুন ধরানো, সন্তানদের নাস্তা তৈরি আর ঘরদোর গুছিয়ে তারা ছোটেন কর্মস্থলে। রিকশা চালানো থেকে শুরু করে ইট ভাঙা, পোশাক কারখানা কিংবা অন্যের গৃহস্থালির কাজ- সবখানেই তাদের সরব উপস্থিতি।

আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বজুড়ে যখন নারীর জয়গান গাওয়া হচ্ছে, তখন বাংলাদেশের লাখ লাখ শ্রমজীবী নারীর জীবনে এই দিনটি কেবলই আরও একটি হাড়ভাঙা খাটুনির দিন।

রাজধানীর এক নির্মাণাধীন ভবনে ইট ভাঙছিলেন সুফিয়া বেগম (৪০)। নারী দিবস কী, তা তাঁর জানা নেই। প্রশ্ন করতেই মুচকি হেসে বললেন, ‘দিবস দিয়া কী হইবো বাবা? একদিন কাজে না গেলে পেটে ভাত জুটবো না। আমাগো লাইগা সব দিনই সমান।’ সুফিয়ার মতো দেশের অগণিত অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের নারী শ্রমিকদের কাছে নারী দিবস মানে একটি অজানা শব্দ। দিবসটি তাদের কাছে কোনো ছুটির বার্তা নিয়ে আসে না, নিয়ে আসে না বাড়তি কোনো মর্যাদা।

শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও মজুরি বৈষম্য যেন এক অভিশপ্ত প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কৃষি ও নির্মাণ খাতে একই পরিমাণ কাজ করেও পুরুষ শ্রমিকের তুলনায় নারী শ্রমিকরা অনেক কম মজুরি পান। সরকারি হিসাব ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামীণ ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নারী ও পুরুষের মজুরির ব্যবধান এখনো প্রকট। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পুরুষ শ্রমিক যেখানে দৈনিক ৫০০-৬০০ টাকা পাচ্ছেন, সেখানে সমপরিমাণ কাজের জন্য নারী শ্রমিককে দেওয়া হচ্ছে ৩০০-৩৫০ টাকা।

পোশাক খাতের শ্রমিক রহিমা খাতুন বলেন, ‘কারখানায় আট-দশ ঘণ্টা ডিউটি শেষে বাসায় গিয়ে আবার রান্নাবান্না ও সন্তানদের দেখাশোনা করতে হয়। আমাদের কোনো জিরান (বিশ্রাম) নেই। শরীর ব্যথা করে, কিন্তু অভাবের তাড়নায় পরের দিন আবার ভোরে উঠতে হয়।’

কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব, মাতৃত্বকালীন ছুটির অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে শ্রমজীবী নারীরা প্রতিনিয়ত নানামুখী চাপের শিকার হন। এত কিছুর পরেও তারা হাল ছাড়েন না; কারণ তাদের উপার্জনেই চলে হাজারো নিম্নবিত্ত পরিবারের চাকা।

নারীর শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন ও মজুরি বৈষম্য দূর করতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন কঠিন হবে। কেবল শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করলেই হবে না, বরং নারীকে তাঁর ন্যায্য পাওনা ও মর্যাদা দিতে হবে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আলোয় যখন বড় বড় সভা-সেমিনারে নারীর অধিকারের কথা বলা হচ্ছে, তখন মাঠের সেই ঘর্মাক্ত নারী শ্রমিকের দীর্ঘশ্বাস যেন আমাদের উন্নয়নের প্রকৃত চিত্রটি মনে করিয়ে দিচ্ছে। অধিকার কেবল কাগজে-কলমে নয়, বরং তাদের পকেটে ন্যায্য মজুরি আর মনে সম্মানের মধ্য দিয়েই সার্থকতা পাক আজকের এই দিবস।

আরও পড়ুন