EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

ভোট শেষ, কর্মস্থলে ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ

আগামীকাল রবিবার থেকে পূর্ণোদ্যমে সব অফিস-আদালত, যার ফলে রাজধানীর সড়কগুলোতে আবারও চিরচেনা যানজট ও কর্মব্যস্ততা ফিরতে শুরু করেছে।

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪২ এএম

ভোট শেষ, কর্মস্থলে ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ

ছুটি শেষ, ব্যাগ-পোটলা হাতে প্রিয় শহর ঢাকায় ফিরছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

অ অ

ভোটের উৎসব শেষ, এবার ফেরার পালা। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রাষ্ট্রের গতিপথ নির্ধারণী ‘গণভোট’ শেষে নাড়ির টান ছেড়ে আবারও ব্যস্ত ঢাকা অভিমুখে ফিরতে শুরু করেছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। গত কয়েক দিন যারা শান্ত গ্রাম্য মেঠোপথ আর প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে কাটিয়েছেন, আজ তারা আবারও যান্ত্রিক নগরের কোলাহলে শামিল হচ্ছেন।

ব্যাগ-পোটলা হাতে কর্মস্থলে ফেরার তাড়া নিয়ে ভোটাররা বাস বা ট্রেনে উঠছেন। ফেসবুকে অনেকে গ্রামের ভোটকেন্দ্রের স্মৃতি শেয়ার করার পাশাপাশি ট্রেনের জানালা দিয়ে তোলা ‘ব্যাক টু ঢাকা’ ক্যাপশনের ছবি দিচ্ছেন।

নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সরকারি সাধারণ ছুটি ছিল। এরপর শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের এক লম্বা বিরতি পেয়েছেন চাকরিজীবীরা। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর একটি উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে ছিল তৃপ্তির আভা।

তবে ছুটির সময় ফুরিয়ে আসায় আজ শনিবার সকাল থেকেই ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং সদরঘাট ও কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেছে ঢাকামুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

মহাসড়কে দেখা গেছে সারি সারি দূরপাল্লার বাস। কেউ আসছেন উত্তরবঙ্গ থেকে, কেউবা দক্ষিণবঙ্গ থেকে। সবার চোখেমুখে ক্লান্তি থাকলেও একটি সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারার তৃপ্তি ফুটে উঠেছে। 

ভোট উৎসব কাটিয়ে আবারও চিরচেনা ব্যস্ততার নগরী ঢাকায় ফিরছে মানুষ। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

ফিরে আসা মানুষের মুখে মুখে ছিল নির্বাচনি গল্প। ব্যবসায়ী কামরুল হাসান বলেন, ‘বহু বছর পর নিজের ভোটটা দিতে পেরেছি, এর চেয়ে শান্তি আর কিছু নেই। নির্বাচন আর গণভোটের ছুটিটা যেন ঈদের আনন্দের মতো কেটেছে। এখন আবার ব্যস্ততায় ফেরার পালা।’

বেসরকারি চাকরিজীবী সুমনা আক্তার বলেন, ‘এবার নির্বাচনি পরিবেশ অন্যরকম ছিল। কোনো আতঙ্ক ছিল না, তাই পরিবার নিয়ে নির্ভয়ে গ্রামে গিয়েছিলাম। তবে অফিস শুরু হওয়ার তাড়া থাকায় আজই ভোরে চলে এলাম।’

নির্বাচনের ছুটিতে রাজধানীর যে অলিগলিগুলো একদমই জনশূন্য হয়ে পড়েছিল, সেখানে আবার ফিরছে কোলাহল। চায়ের দোকানে আড্ডার প্রধান বিষয় এখন ‘নতুন মন্ত্রিসভা’ আর ‘তারেক রহমানের নেতৃত্ব’। শহরের মোড়ে মোড়ে গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়ছে, খুলেছে দোকানপাটও। বিশেষ করে গার্মেন্টস কর্মীরা ফিরতে শুরু করায় শিল্পাঞ্চলগুলোতেও কর্মব্যস্ততার আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

শীতের শেষে ফাগুনের মিষ্টি হাওয়ায় নতুন এক রাজনৈতিক সূচনার সাক্ষী হয়ে মানুষ ফিরছেন তাঁদের প্রিয় শহরে। এই ফিরে আসা কেবল একটি যান্ত্রিক ফেরা নয়, বরং একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ শেষে নতুন আগামীর স্বপ্নের বীজ নিয়ে ফেরা।

গত কয়েক দিন ঢাকা ছিল প্রায় জনশূন্য ও শান্ত। রাস্তাঘাট ছিল ফাঁকা। তবে আজ দুপুর থেকেই রাজধানীর মোড়ে মোড়ে জ্যামের সেই পরিচিত দৃশ্য ফিরতে শুরু করেছে। রিকশা, সিএনজি আর বাসের আনাগোনা বেড়ে গেছে। বাজারগুলোতেও সরব হতে শুরু করেছেন বিক্রেতারা।

আগামীকাল রবিবার থেকে পূর্ণোদ্যমে খুলছে সব অফিস-আদালত, কল-কারখানা। নতুন সরকার গঠনের মাহেন্দ্রক্ষণ সামনে রেখে এই কর্মব্যস্ত মানুষেরাই আবারও সচল করে তুলবে বাংলাদেশের হৃদপিণ্ড- এই ঢাকাকে।

আরও পড়ুন