EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

ত্রয়োদশ নির্বাচন: শঙ্কা কাটিয়ে সুষ্ঠু ভোটের সম্ভাবনা কতটুকু?

‘তৃণমূল থেকে কেন্দ্র- সর্বত্রই আলোচনা এখন একটিই: দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র সংস্কারের যে দাবি রাজপথে উঠেছিল, তার প্রতিফলন ব্যালট পেপারে কতটা ঘটবে?’

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

ত্রয়োদশ নির্বাচন: শঙ্কা কাটিয়ে সুষ্ঠু ভোটের সম্ভাবনা কতটুকু?

‘প্রস্তুত ৪৩ হাজার কেন্দ্র; ভোট উৎসব বনাম শঙ্কার দ্বৈরথে এখন কেবলই সময়ের অপেক্ষা।’

অ অ

এখন রাত ৯টা। চায়ের দোকানের ‘মিনি সংসদ’ থেকে শুরু করে ড্রয়িংরুমের আড্ডা- সবখানেই এখন কেবলই অপেক্ষা। কয়েক ঘণ্টা পরেই খুলবে ভোটকেন্দ্রের তালা। শঙ্কা আর দ্বিধা ছাপিয়ে কালকের একটি স্বচ্ছ ব্যালট পেপারের মধ্য দিয়ে নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন কোটি ভোটার।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে বহুল আলোচিত সংবিধান সংশোধন বা ‘জুলাই সনদ’ প্রশ্নে গণভোট।

প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটারের হাতে এখন দেশের আগামীর ভাগ্য। একদিকে গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ভেঙে নতুন শুরুর উদ্দীপনা, অন্যদিকে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নির্বাচন-পরবর্তী স্থিতিশীলতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কাজ করছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে সারাদেশে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে (একটি আসনে প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় স্থগিত) এই মহাযজ্ঞ চলবে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

ইসি সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, ‘ইতিহাসের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।’ ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং প্রথমবারের মতো প্রিসাইডিং অফিসারদের সাথে সশস্ত্র বডিগার্ড দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে থাকছেন, যার মধ্যে ১ লাখেরও বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার এবার প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সদ্য গ্রাজুয়েশন শেষ করা নুসরাত জাহান জেরিন বলেন, ‘নির্বাচন মানে কেবল ক্ষমতা বদল নয়, আমাদের কাছে এটি রাষ্ট্র মেরামতের সুযোগ। ছাত্ররা অনেক রক্ত দিয়েছে একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার জন্য, সেই স্বচ্ছতা যেন কালকের ভোটে বজায় থাকে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাইয়ান আহমেদের মতে, ভয় শুধু ভোট-পরবর্তী ‘দখলদারিত্বের রাজনীতি’ নিয়ে। তিনি চান এমন এক প্রতিনিধি, যিনি দলের চেয়ে মানুষের সেবক হিসেবে বেশি কাজ করবেন।

এবারের নির্বাচন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ দেড় দশক পর আওয়ামী লীগহীন কোনো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে দেশের মানুষ। মূল লড়াই মূলত বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটগুলোর মধ্যে। এছাড়া গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা নতুন দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) তরুণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

বিএনপি যাদের প্রধান স্লোগান ‘রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া’। ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা সাধারণ ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছে। জামায়াত দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি দমনের কঠোর বার্তা নিয়ে তারা এখন মাঠের অন্যতম শক্তিশালী পক্ষ।

প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। তাদের কাছে প্রত্যাশা- একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ।

তবে শঙ্কাও কম নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের এই নির্বাচনে কোনো কোনো এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘাতের ভয় কাজ করছে। বিশেষ করে গণভোট বা ‘জুলাই সনদ’ পাস হবে কি না, এবং ভোটের পর পরাজিত পক্ষ ফলাফল মেনে নেবে কি না- তা নিয়ে জনমনে রয়েছে উদ্বেগ। উদ্ভাবনী পোলিং বা জনমত জরিপ অনুযায়ী, লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি, যেখানে অনিরূপিত ভোটাররাই হতে পারেন জয়ের নির্ণায়ক।

আরও পড়ুন