প্রকৃতি ও মানুষের নিবিড় মিতালি। ছবি: চিত্রানন্দ
শীতের সকাল মানেই যেন এক অন্যরকম মায়া। চারদিকে ঘন কুয়াশার শুভ্র চাদর, আর সেই সাদা চাদর ভেদ করে প্রকৃতির শান্ত রূপ। সম্প্রতি এমনই এক স্নিগ্ধ ও কুয়াশাচ্ছন্ন সকালের দেখা মিলল ক্যাম্পাসের নির্জন রাস্তায়। যেখানে প্রকৃতি আর তারুণ্য মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।
সকালটা আজ আর পাঁচটা দিনের মতো ছিল না। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি যে, সামনের পিচঢালা পথটি যেন সাদা মেঘের মাঝে হারিয়ে গেছে। রাস্তার দুই ধারের চিরচেনা ঘন সবুজ গাছপালা আর ঝোপঝাড় আজ অবগুণ্ঠিত। কুয়াশার কারণে ধূসর হয়ে যাওয়া সেই সবুজ প্রকৃতি যেন শীতের তীব্রতার কথাই বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে। দূরে দাঁড়িয়ে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলোকেও দেখাচ্ছে রহস্যময় কোনো পাহাড়ের চূড়ার মতো।
এই কুয়াশাঘেরা জনশূন্য পথে প্রাণের স্পন্দন হয়ে ধরা দিয়েছে একদল তরুণ-তরুণী। তারা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। কনকনে ঠান্ডাকে জয় করে তারা বেরিয়ে পড়েছেন প্রকৃতির সান্নিধ্যে। কারো পরনে রঙিন সোয়েটার, কারো গায়ে হুডি, আবার কারো মাথায় বাহারি শীতের টুপি। শীতের এই পোশাকগুলো শুধু তাদের শরীরই উষ্ণ রাখছে না, বরং সকালের হাড়কাঁপানো ঠান্ডার পরিস্থিতিকেও স্পষ্ট করে তুলছে। তাদের ধীর পায়ের পদচারণা শান্ত রাস্তাটিতে এক প্রাণবন্ত সুর তুলেছ।
-69625b85aeca2.jpg)
পিচঢালা ভেজা রাস্তাটি আজ সম্পূর্ণ শান্ত। যান্ত্রিক কোলাহল নেই, নেই ব্যস্ত মানুষের ভিড়। এই নির্জনতা যেন প্রকৃতির এক অনন্য উপহার। ভেজা রাস্তায় কুয়াশার বিন্দুরা মিলেমিশে এক স্নিগ্ধ আবেশ তৈরি করেছে, যা পথচারীদের মনে করিয়ে দিচ্ছে আমাদের ফেলে আসা কোনো এক সোনালী স্মৃতি।
শীতের এই সকালটি যেন মনে করিয়ে দেয়, ব্যস্ত জীবনের ভিড়েও প্রকৃতি আমাদের কত কাছাকাছি থাকে। যখন কুয়াশাচ্ছন্ন এই পথে শিক্ষার্থীরা পাশাপাশি হেঁটে যায়, তখন মনে হয় মানুষের সাথে প্রকৃতির এই সখ্য যেন চিরকালীন। এমন মনোরম পরিবেশ কেবল চোখ জুড়ায় না, মনকেও এক অদ্ভুত শান্তিতে ভরিয়ে দেয়।
শীত আসবে, আবার কুয়াশাও কেটে যাবে। কিন্তু, এই কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে একদল নবীন শিক্ষার্থীর ধীরপায়ে হেঁটে চলার এই স্মৃতিটি ক্যাম্পাসের ইতিহাসে রয়ে যাবে এক অমলিন ছবি হয়ে।