বলিউডের সেই পরিচিত শিশুশিল্পীরা: শৈশবের পর্দা কাঁপিয়ে আজ কে কোথায়?
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
একসময় তাঁদের মিষ্টি হাসি, নিষ্পাপ অভিনয় আর অসাধারণ অভিব্যক্তি মন জয় করেছিল কোটি দর্শকের। সময়ের আবর্তে সেই শিশু তারকারাই আজ প্রাপ্তবয়স্ক। বড় হয়ে কেউ অভিনয়কেই জীবনের মূল পেশা হিসেবে আঁকড়ে ধরেছেন, কেউ দক্ষিণী ছবি বা ওয়েব প্ল্যাটফর্মে তৈরি করেছেন নিজস্ব বলয়, আবার কেউ বিনোদনজগতের ঝলমলে আলো ছেড়ে বেছে নিয়েছেন প্রত্নতত্ত্বের মতো সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশা।
বলিউডের আলোচিত সেই শিশুশিল্পীদের বর্তমান পথচলার একটি বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
কুণাল খেমু
নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় ছবি ‘হাম হ্যায় রাহি প্যায়ার কে’, ‘রাজা হিন্দুস্তানি’ ও ‘জখম’-এ শিশুশিল্পী হিসেবে নজর কেড়েছিলেন কুণাল খেমু। বড় হয়ে অভিনয়কেই পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। পরবর্তী সময়ে কৌতুকধর্মী থেকে শুরু করে গম্ভীর চরিত্র— সব মাধ্যমেই নিজের অবস্থান মজবুত করেছেন। বর্তমানে কেবল অভিনয় নয়, চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও সফল আত্মপ্রকাশ ঘটেছে তাঁর।
যুগল হংসরাজ
‘মাসুম’ চলচ্চিত্রের সেই নীল চোখের ছোট্ট ছেলেটিকে ভোলা কঠিন। যুগল হংসরাজের শিশুশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ ছিল এক কথায় স্মরণীয়। বড় হয়ে ‘মোহাব্বতে’-সহ বেশ কিছু ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। পরবর্তীতে পরিচালনার দিকে ঝুঁকে পড়লেও বেশ কিছুদিন ধরে অভিনয়ে তাঁকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে না।

উর্মিলার মাতন্ডকর
যুগল হংসরাজের মতোই ‘মাসুম’ ছবি দিয়ে বড়পর্দায় পা রেখেছিলেন উর্মিলা মাতন্ডকর। পরবর্তীতে নব্বইয়ের দশকে বলিউডের অন্যতম শীর্ষ তারকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। ‘রঙ্গীলা’, ‘সত্য’ ও ‘জুদাই’-এর মতো চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকের মনে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। অভিনয় জীবনের একপর্যায়ে তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা নেন।
আফতাব শিবদাসানি
খুব অল্প বয়সেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন আফতাব শিবদাসানি। ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে তাঁর অভিনয় সমাদৃত হয়। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর ‘মস্ত’, ‘আওয়ারা পাগল দিওয়ানা’ ও ‘ক্যায়া কুল হ্যায় হাম’-এর মতো ছবিতে নায়ক হিসেবে কাজ করলেও কাঙ্ক্ষিত একক সাফল্য অর্জন করতে পারেননি।
সানা সইদ
‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবির সেই চঞ্চল ‘ছোট্ট অঞ্জলি’কে দর্শক আজও ভুলতে পারেননি। দীর্ঘ সময় পর বড় হয়ে ‘স্টুডент অব দ্য ইয়ার’ ছবির মাধ্যমে নতুন অবতারে পর্দায় ফেরেন সানা সইদ। বেশ কিছু রিয়্যালিটি শোতেও অংশ নেন তিনি। তবে শিশুশিল্পী হিসেবে পাওয়া সেই অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা প্রাপ্তবয়স্ক অভিনেত্রী হিসেবে তিনি ধরে রাখতে পারেননি।
আহসাস চন্না
শৈশবে তাঁকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছেলে শিশুর চরিত্রেই দেখা যেত। ‘কভি আলবিদা না কহনা’ ছবিতে শাহরুখ খানের ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আহসাস। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে পুরোপুরি বদলে ফেলেছেন তিনি। বর্তমানে ‘কোটা ফ্যাক্টরি’ ও ‘হস্টেল ডেজ’-এর মতো জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে নতুন প্রজন্মের কাছে এক পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।
দর্শীল সাফারি
‘তারে জমিন পর’ চলচ্চিত্রের ‘ঈশান আওয়াস্থী’ চরিত্রটি দর্শীল সাফারির অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়। ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুর মানসিক সংঘাত পর্দায় যেভাবে তিনি ফুটিয়ে তুলেছিলেন, তা দর্শকদের গভীরভাবে আবেগপ্লুত করেছিল। পরবর্তীতে বেশ কিছু প্রজেক্টে কাজ করলেও প্রথম ছবির সাফল্যকে আর স্পর্শ করতে পারেননি তিনি। তবে এখনও অভিনয়ের সঙ্গেই যুক্ত রয়েছেন।
হরশালি মলহোত্র
‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ছবিতে একটি বাক্যও না বলে শুধু অভিব্যক্তির জোড়ে কোটি দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন ‘মুন্নি’ ওরফে হরশালি মলহোত্র। সলমন খানের সঙ্গে তাঁর অনস্ক্রিন রসায়ন ছিল ছবির অন্যতম মূল আকর্ষণ। বর্তমানে পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকলেও বড়পর্দায় তাঁর উপস্থিতি তুলনামূলক কম।
হানসিকা মোটওয়ানি
‘কোই... মিল গয়া’ ছবিতে হৃতিক রোশনের সঙ্গে পুতুল চেহারার সেই ছোট্ট হানসিকাকে দেখা গিয়েছিল। শিশুশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরে দক্ষিণী চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির দিকে। তামিল ও তেলুগু সিনেমার অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন হানসিকা।
-6a7d5f30d7f2e.jpg)
শ্বেতা বসু প্রসাদ
‘মকড়ি’ ছবিতে দ্বৈত চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে শিশু বয়সে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন শ্বেতা বসু প্রসাদ। পরবর্তীতে ‘ইকবাল’-এর মতো প্রশংসিত চলচ্চিত্রেও কাজ করেন। পরিণত বয়সে হিন্দি চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও টেলিভিশনে শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে একজন দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে প্রমাণ করেছেন তিনি।
মালবিকা রাজ
‘কভি খুশি কভি গম’ ছবিতে ছোটবেলার ‘পু’ (করিনা কাপুর) চরিত্রে অভিনয় করে নজর কেড়েছিলেন মালবিকা রাজ। বড় হয়ে মডেলিং ও অভিনয়— দুই মাধ্যমেই কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে কয়েকটি চলচ্চিত্রে কেন্দ্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে তাঁকে।
পরজান দস্তুর
মাথায় পাগড়ি, আঙুলে তারা গোনার সেই সরল অভিব্যক্তি— ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ চলচ্চিত্রের ছোট্ট পরজান দস্তুরকে এক দৃশ্যেই বিখ্যাত করে তুলেছিল। পরবর্তীতে আরও কিছু কাজ করলেও পূর্ণকালীন অভিনয়কে পেশা করেননি তিনি। বর্তমানে ক্যামেরার পেছন থেকেই জীবনের নতুন পথ বেছে নিয়েছেন পরজান।
ঝানাক শুক্লা
টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘করিশ্মা কা করিশ্মা’-র রোবট শিশু এবং ‘কাল হো না হো’ ছবির ‘জিয়া’— উভয় চরিত্রেই দর্শকদের ভালোবাসা কুড়িয়েছিলেন ঝানাক শুক্লা। কিন্তু বড় হওয়ার পর বিনোদনজগতকে বিদায় জানান তিনি। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ববিদ (Archaeologist) হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়েছেন।
পূজা রূপারেল
‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’ ছবির প্রাণবন্ত চরিত্র ‘চুটকি’ (কাজলের বোন)-কে আজও ভক্তরা মনে রেখেছেন। ছবির কৌতুকপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে তাঁর ভূমিকা ছিল লক্ষণীয়। তবে এই অভূতপূর্ব সাফল্যের পর বলিউডে নিয়মিত হননি তিনি। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি স্ট্যান্ড-আপ কমেডি ও অন্যান্য সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন পূজা।
আয়েশা কাপুর
‘ব্ল্যাক’ চলচ্চিত্রে রানি মুখোপাধ্যায়ের ছোটবেলার চরিত্রে আয়েশা কাপুরের অভিনয় সমালোচকদের চমকে দিয়েছিল। অমিতাভ বচ্চনের মতো দিগ্পাল অভিনেতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের জন্য প্রচুর প্রশংসা কুড়ান তিনি। তবে অভিনয়কে একমাত্র লক্ষ্য না বানিয়ে পরবর্তী সময়ে তিনি পড়াশোনা ও ব্যবসায়িক জীবনের দিকে মনোনিবেশ করেন।
