EN ☀️
×

Follow Us

বিনোদন

বাসায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় ক্ষোভ ঝেড়ে যা বললেন ববি

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম

বাসায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় ক্ষোভ ঝেড়ে যা বললেন ববি
অ অ

ঈদের ঠিক দুই দিন আগে রাজধানীর বাসায় এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় চরমভাবে ভেঙে পড়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা ইয়ামিন হক ববি। গত ২৬ মে রাজধানীর কাফরুল থানার পূর্ব মনিপুর এলাকায় ববির স্থায়ী ঠিকানার বাসায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় শুটিংয়ের কাজে বাইরে ছিলেন এই তারকা। এই ঘটনায় কাফরুল থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত ফারুক ও তার স্ত্রীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে।

তদন্ত ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ববির বাসা থেকে চুরি হওয়া মালামালের মোট বাজারমূল্য প্রায় ৮৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। লুট হওয়া সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ৫ জোড়া স্বর্ণের চুড়ি, ১০ লাখ টাকা মূল্যের সাত জোড়া কানের দুল, ৩টি নেকলেস, ৮টি লকেট, ১২টি চেইন, আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ৭টি ডায়মন্ডের নাকফুল, ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৫টি ব্র্যান্ডের হাতঘড়ি এবং নগদ ৬ লাখ টাকা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, গত ২৫ মে শুটিংয়ের কাজে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন চিত্রনায়িকা ববি। পরদিন ২৬ মে রাতে তার গৃহপরিচারিকা মোবাইল ফোনে তাকে চুরির বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ববি দ্রুত বাসায় ফিরে দেখতে পান, তার বেডরুমের জানালা এবং বারান্দার দুটি গ্রিল কাটা এবং আলমারি ভেঙে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে মামলার কাগজ, আলমারি ও আসামিদের ছবি প্রকাশ করে চুরির নেপথ্যের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন ববি। সেখানে নিজের চরম হাহাকার ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এই নায়িকা লেখেন, “চোরকে সাধারণ চোর ভাবার কোনো সুযোগ নেই। এরা সংঘবদ্ধ, পরিকল্পিত এবং পেশাদার অপরাধী। মানুষের ঘাম ঝরানো কষ্টার্জিত সম্পদ মুহূর্তের মধ্যে লুট করে নিয়ে যায়, আর রেখে যায় অসহায়ত্ব, নিরাপত্তাহীনতা ও অসীম কষ্ট।”

বাবার স্মৃতিবিজড়িত গহনা হারানোর কষ্ট তুলে ধরে ফেসবুক পোস্টে ববি আরও লেখেন, “ঈদের আনন্দ আমার জীবনে গভীর কষ্ট হয়ে এসেছে। ঈদের মাত্র দুই দিন আগে আমার বাসার জানালার গ্রিল কেটে দুর্বৃত্তরা প্রবেশ করে। আমার বাবার ভালোবাসার স্মৃতি হিসেবে দেওয়া প্রায় ৩০–৩৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা এবং বেশ কয়েকটি মূল্যবান ঘড়ি চুরি হয়ে যায়। শুধু সম্পদ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল অসংখ্য স্মৃতি, আবেগ এবং পরিবারের ভালোবাসা।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লেখেন, “আল্লাহর রহমতে অভিযুক্ত ব্যক্তি আসামী ফারুক ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ৪ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার হয়েছে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে এখনও আমার অধিকাংশ সম্পদ উদ্ধার হয়নি। আমি সকলের কাছে দোয়া চাই, যেন বাকি স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য জিনিস দ্রুত উদ্ধার হয় এবং যারা এই অন্যায় করেছে তারা যথাযথ শাস্তির মুখোমুখি হয়। জীবনে অর্থের চেয়ে স্মৃতির মূল্য অনেক বেশি। বাবার দেওয়া সেই স্মৃতিগুলো হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”

আরও পড়ুন