জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন
ডেইলি সান রিপোর্ট, জবি
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে। এর অংশ হিসেবে সকাল ১১টায় উপাচার্যের সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া এবং ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যথাযোগ্য মর্যাদায় এ দিবস উদযাপন করতে পারা অত্যন্ত গৌরব ও আনন্দের বিষয়।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। ১৯৭১ সালে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টরের নেতৃত্ব এবং জেড ফোর্স গঠনের মাধ্যমে সম্মুখসমরে অংশগ্রহণ ছিল জিয়াউর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জাতীয় সংকটের প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব সংঘটিত হয় উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, এদিন সিপাহীরা জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে জাতীয় জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাসে এ ঘটনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দর্শন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ স্মরণীয়। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং আপসহীন নেতৃত্বও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে।
উপাচার্য বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জাতীয় ইতিহাস ও নেতৃত্বের অবদান নিয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি, যা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর, শহীদ ও সেক্টর কমান্ডারদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জাতীয় দায়িত্ব। স্বাধীনতার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ধারণ করার অর্থ হলো জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করা। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো যথাযথভাবে স্মরণ ও মূল্যায়নের মধ্য দিয়েই শক্তিশালী জাতীয় পরিচয় ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নানা বঞ্চনা, সীমাবদ্ধতা ও প্রত্যাশিত উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সবাইকে দল-মত ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে মর্যাদাপূর্ণ ও সমৃদ্ধ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে ‘টিম জগন্নাথ’-এর ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও গতিশীলতাকে কাজে লাগাতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, ১৯৭৫ সালের সংকটময় সময়ে দেশে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছিল। এমন পরিস্থিতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব দেশকে সংকট উত্তরণে দিকনির্দেশনা দিয়েছিল।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের আদর্শ, সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের চেতনা ধারণ করে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। পারস্পরিক শত্রুতা ও বিভেদ ভুলে সমাজে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শুধু কথায় নয়, দৈনন্দিন কাজ ও আচরণের মাধ্যমেও আদর্শের প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
ট্রেজারার আরও বলেন, এমন একটি সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় থাকতে হবে, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিজ দেশেই উন্নত জীবন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। জীবিকার প্রয়োজনে অন্য দেশে পাড়ি জমানোর প্রয়োজন হবে না।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ। এ সময় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শাওলী মাহবুব, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জামির হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল এবং সহায়ক কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. আবু সাঈদ বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।