EN ☀️
×

Follow Us

শিক্ষা

১৪ শিক্ষকের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মাত্র একজন, তিনিও ফেল

ডেইলি সান রিপোর্ট, গোপালগঞ্জ

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম

১৪ শিক্ষকের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মাত্র একজন, তিনিও ফেল

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ।

অ অ

একটি কলেজে শিক্ষক রয়েছেন ১৪ জন। অথচ এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী। সেই একমাত্র পরীক্ষার্থীও হয়েছেন অকৃতকার্য। এমন চিত্র গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের।

কাগজে-কলমে শিক্ষক থাকলেও বাস্তবে কলেজ শাখায় নেই শিক্ষার্থী, নেই নিয়মিত পাঠদানের পরিবেশ। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।

২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে মুকসুদপুর উপজেলার বহুগ্রামে কলেজ শাখার কার্যক্রম শুরু করে দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। 

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশ নেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী। গত ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, সেই একমাত্র পরীক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

সরেজমিনে কলেজে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষার্থী নেই। সেখানে চলছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টরা জানান, কাগজে-কলমে অধ্যক্ষসহ ১৪ জন শিক্ষক থাকলেও কলেজ শাখায় বাস্তবে কোনো শিক্ষক নেই। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়েই পরিচালিত হয় কলেজের পাঠদান কার্যক্রম।

ফলে কলেজে ভর্তি হয়েও অনেক শিক্ষার্থী অন্য প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়াশোনা করেন বলে জানা গেছে। তবে বিগত বছরগুলোর পরীক্ষার ফলাফল ও শিক্ষার্থীসংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে তা দিতে রাজি হয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ঝর্না রানী বিশ্বাস বলেন, পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে যদি শিক্ষার্থী ভর্তি না হয়, তাহলে আমাদের কী করার আছে? তা ছাড়া কলেজ শাখায় কোনো শিক্ষকও নেই।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিতোষ সরকার বলেন, কলেজ শাখার অনুমোদন নেওয়ার সময় শিক্ষক ছিল। পরে এমপিওভুক্ত না হতে পেরে অনেকে চলে গেছেন। কলেজ শাখায় ভালো কিছু হচ্ছে না। এখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী দুই সংকটই রয়েছে। তাই এটি বন্ধ হয়ে গেলেই ভালো হয়।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পরিমল কীর্তনিয়া বলেন, আমি এক সপ্তাহ হলো সভাপতির চিঠি পেয়েছি। এখনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মিটিং করতে পারিনি। এসব বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।

সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলেই হবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর পাঠদান ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষকসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন