EN ☀️
×

Follow Us

শিক্ষা

‘শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে পিতা-মাতার আত্মত্যাগ, ধৈর্য্য ও দীর্ঘ সংগ্রাম'

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

‘শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে পিতা-মাতার আত্মত্যাগ, ধৈর্য্য ও দীর্ঘ সংগ্রাম'

ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি)-এর ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মাহ্‌দী আমিন। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে তাঁদের পিতা-মাতার অপরিসীম আত্মত্যাগ, অসীম ধৈর্য এবং দীর্ঘ সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন। তিনি বলেন, ‘স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর সমাবর্তনে অংশ নেওয়া জীবনের এক অনন্য ও গৌরবময় অভিজ্ঞতা, যা শিক্ষার্থীদের স্মৃতিপটে আজীবন অম্লান হয়ে থাকবে।’’

রবিবার (১১ অক্টোবর) গাজীপুরের বোর্ডবাজারে অবস্থিত ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি)-এর ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে এ কথা বলেন মাহ্‌দী আমিন।

মাহ্‌দী আমিন বলেন, আজকে যে বর্তমান আপনারা পেয়েছেন, তা যেমন আপনাদের ভবিষ্যৎ দেবে, তেমনি এর পেছনে রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল অতীত। শিক্ষাজীবনের এই বছরগুলোতে আপনারা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন, পরীক্ষার নানান উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা পার করেছেন, ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন দুশ্চিন্তা অতিক্রম করেছেন। কিন্তু আজ আপনারা এই সমাবর্তনে উপস্থিত হয়েছেন আপনাদের পিতা-মাতার লক্ষ্যপূরণ করে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কিংবা সারা বিশ্বের প্রতিটি শিক্ষার্থীর অর্জন ও সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁদের বাবা-মায়ের ভালোবাসার গল্প, ত্যাগের গল্প, ধৈর্যের গল্প, ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প, হয়তো কঠিন সংগ্রামের গল্প। তাই পরিবারের সদস্যদের এই অবদানের কথা স্মরণ রাখুন এবং হৃদয় থেকে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রী ড. এ. এন. এম. এহসানুল হক মিলন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ।

সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ। সমাবর্তন উপলক্ষে বিশেষ বার্তা পাঠান ওআইসির মহাসচিব ও আইইউটির চ্যান্সেলর ইসমাইল ওল্ড শেখ আহমেদ।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘‘আইইউটি দাঁড়িয়ে আছে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যকার সুদৃঢ় ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে। ওআইসি ভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও অভিন্ন লক্ষ্যকে ধারণ করে এই বিদ্যাপীঠ যুগান্তকারী প্রকৌশলী তৈরি করে আসছে, যাঁরা বিশ্বমঞ্চে অবদান রাখছেন।’’

বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে ওঠার ঐতিহাসিক তাৎপর্য স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, আরেক মহান নেতা ইয়াসির আরাফাতকে সাথে নিয়ে এই আইইউটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তাই মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ক্ষেত্রে আইইউটির এক বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বহুবার এই ক্যাম্পাসে এসেছেন এবং সমাবর্তনে অংশ নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমানে বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনায় থাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আগামী দিনগুলোতে একইভাবে এখানে আসবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

এ প্রসঙ্গে মাহ্‌দী আমিন দলমত নির্বিশেষে প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক ভিত্তির কথা স্মরণ করেন এবং বিদ্যাপীঠের ব্র্যান্ডিংকে বিশ্বজুড়ে সমুন্নত রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বর্তমান যুগের প্রযুক্তিগত রূপান্তর, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং রোবোটিক্সের অগ্রযাত্রার কথা উল্লেখ করে মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘‘প্রযুক্তি কোড লিখতে পারে, ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারে কিংবা নতুন আইডিয়া তৈরি করতে পারে; কিন্তু প্রযুক্তি মানবজাতির কল্যাণে ব্যবহৃত হবে নাকি অকল্যাণে, তা মূলত নির্ভর করবে মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ ও সততার ওপর। আপনারাই হলেন সেই মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী।’’

প্রযুক্তির পরবর্তী যুগান্তকারী বিপ্লবটি সিলিকন ভ্যালি থেকে না এসে আইইউটি’র গ্র্যাজুয়েটদের হাত ধরেই আসতে পারে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন মাহ্‌দী আমিন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, ভৌগোলিক দূরত্ব বা ভাষার ভিন্নতা থাকলেও মুসলিম বিশ্বের চ্যালেঞ্জ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও মূল্যবোধ এক ও অভিন্ন। তাই জ্ঞানকে অভিন্ন ভাষা এবং মানবতাকে চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

গ্র্যাজুয়েটদের বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে উন্মুক্ত বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করার এবং সাহসের সাথে নেতৃত্ব দিয়ে সমাজ, রাষ্ট্র ও সামগ্রিক মানবতার কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার উদাত্ত আহ্বান জানান মাহ্‌দী আমিন।

অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) অধিভুক্ত এই আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এবারের সমাবর্তনে ওআইসিভুক্ত ১৬টি সদস্য দেশের মোট ৬৫৯ জন গ্র্যাজুয়েট স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ডিগ্রি লাভ করেন। অনুষ্ঠানে অসাধারণ একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ একজন কৃতি শিক্ষার্থীকে ওআইসি গোল্ড মেডেল ও  ৬ শিক্ষার্থীকে আইইউটি গোল্ড মেডেলে পুরস্কৃত করা হয়।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. হোসেন আরাবি নূরসহ বিশিষ্ট কূটনীতিবিদ, আমন্ত্রিত অতিথি, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন