‘ডেঙ্গু ফ্রি ডিইউ ফটো হান্ট’
ঢাবিতে মশার প্রজননস্থল খুঁজবে শিক্ষার্থীরা
এডিসের সম্ভাব্য প্রজননস্থলের ছবি তুলে ফেসবুকে দিলেই অংশ নেওয়া যাবে। পুরস্কার ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত।
শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডেঙ্গু ফ্রি ডিইউ ফটো হান্ট’ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে ২০ সেপ্টেম্বর। ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডেঙ্গু ফ্রি ডিইউ ফটো হান্ট’ নামে একটি কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি সিভিক ইনিশিয়েটিভ’-এর আয়োজনে এটি চলবে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর (রবিবার) থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) পর্যন্ত। কর্মসূচির লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে ক্যাম্পাসকে আরও পরিচ্ছন্ন ও ঝুঁকিমুক্ত রাখা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তারিকুল ইসলাম তারিকের তত্ত্বাবধান ও পৃষ্ঠপোষকতায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
আয়োজকেরা জানান, ‘ফাইন্ড. ক্লিক. রিপোর্ট.’ প্রতিপাদ্যের এই উদ্যোগে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করতে পারবেন। ছবি ও তথ্যের মাধ্যমে সেগুলো তুলে ধরবেন তাঁরা।
আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন জমে থাকা পানি, ফুলের টবের পাত্র, পরিত্যক্ত সামগ্রী ও অন্যান্য জলাবদ্ধ স্থান এ কার্যক্রমে গুরুত্ব পাবে।
অংশ নেবেন যেভাবে
- সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের ছবি তুলতে হবে।
- ছবির সঙ্গে স্থানের অবস্থান ও সমস্যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ যুক্ত করতে হবে।
- স্থানটি দীর্ঘমেয়াদে পরিচ্ছন্ন ও ঝুঁকিমুক্ত রাখতে নিজের পরামর্শ দিতে হবে।
- এরপর নির্ধারিত হ্যাশট্যাগসহ ছবিটি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশ করতে হবে।
নির্ধারিত হ্যাশট্যাগ হলো #FindClickReport, #DengueFreeDUCampus এবং #DhakaUniversityCivicInitiative।
আয়োজকদের ভাষ্য, এটি শুধু ফটো প্রতিযোগিতা নয়। এটি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পরিচালিত একটি ‘ক্রাউডসোর্সড ক্যাম্পাস রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ’। এতে ক্যাম্পাসের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান দ্রুত চিহ্নিত করা এবং সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব হবে।
বিজয়ী নির্ধারণ ও পুরস্কার
অংশগ্রহণকারীদের পোস্টে পাওয়া লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের সম্মিলিত সংখ্যার ভিত্তিতে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে। তবে শুধু অনলাইন সম্পৃক্ততা নয়, ছবির প্রাসঙ্গিকতা, সমস্যার গুরুত্ব, অবস্থান শনাক্তের নির্ভুলতা এবং স্থায়ী সমাধানের মতামতও মূল্যায়নে থাকবে বলে জানান আয়োজকেরা।
প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীরা যথাক্রমে ১২ হাজার, ৮ হাজার ও ৫ হাজার টাকা পাবেন। চতুর্থ থেকে দশম স্থান অর্জনকারীদের দেওয়া হবে বই ও গাছের চারা। অংশগ্রহণকারীরা পাবেন ‘ইউনিভার্সিটি হিরো সার্টিফিকেট’।
উদ্যোগ নিয়ে ছাত্রদলনেতা তারিকুল ইসলাম তারিক বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়। সচেতন নাগরিক হিসেবে শিক্ষার্থীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একটি ছবি বা একটি তথ্য অনেক সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত ও প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসের প্রতি দায়িত্ববোধ, পরিবেশ সচেতনতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।’