EN ☀️
×

Follow Us

শিক্ষা

সাঁতার জানা শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর পুলে মৃত্যু ঘিরে রহস্য

দীপাঞ্জন ঘোষ প্রিয়ম সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রতনকান্দি গ্রামের কৃষ্ণ দুলাল ঘোষ ও চম্পা ঘোষের ছেলে।

ডেইলি সান রিপোর্ট, শাবিপ্রবি

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম

সাঁতার জানা শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর পুলে মৃত্যু ঘিরে রহস্য

শাবিপ্রবির শিক্ষার্থী দীপাঞ্জন ঘোষ প্রিয়ম। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী দীপাঞ্জন ঘোষ প্রিয়ম (২১) সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে নেমে গত বুধবার মারা গেছেন। সহপাঠীদের দাবি, প্রিয়ম সাঁতার জানতেন। এরপরও তাঁর মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

সিলেটের ব্রিটানিয়া সুইমিংপুলে প্রিয়ম ও তাঁর সহপাঠীরা একসঙ্গে সাঁতার কাটতে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় পুলের ৯ ফুট গভীর অংশ থেকে ডুবন্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন পুলের কর্মীরা। সিলেটের দরগা গেট-সংলগ্ন নুরজাহান হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

৫ জন একসঙ্গে পুলে নামলেও কেউ প্রিয়মের ডুবে যাওয়ার বিষয়টি দেখতে পাননি। এই বিষয়টিকে অনেকে রহস্যজনক মনে করছেন।

সহপাঠী ফায়াজ নবী বলেন, তাঁরা তিন বন্ধু নিয়মিতই সেখানে সাঁতার কাটতে যেতেন। ওই দিনও প্রিয়ম তাঁদের সঙ্গে যাওয়ার কথা বলে জানান, তিনি সাঁতার জানেন। তাঁর ভাষ্যমতে, সাঁতার শুরুর পর প্রিয়ম দু-একবার ৯ ফুট গভীর অংশে গিয়ে আবার ফিরে আসেন। পরে তিনি আবার গভীরে চলে যান, তখন কেউ তা টের পাননি।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

সাধারণত সুইমিংপুলে স্বয়ংক্রিয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা বা স্মার্ট পুল কন্ট্রোলার থাকে, যা দিয়ে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পানির স্তর কমানো যায়। এই ঘটনায় এমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সুইমিংপুলের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে অনেকে অভিযোগও তুলেছেন। শিক্ষার্থীর মৃত্যুর সময় দায়িত্বরতরা কোথায় ছিলেন এবং সাঁতারু অসুস্থ হলে তাঁকে উদ্ধারের ব্যবস্থা ছিল কি না—এসব বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

ব্রিটানিকা সুইমিংপুলের ইনস্ট্রাক্টর আমিরুল ইসলাম আবু বলেন, তাঁদের নিয়ম অনুযায়ী সাঁতার না জানলে ৬ ফুটের বেশি গভীর পানিতে নামতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু প্রিয়ম ৯ ফুট গভীর এলাকায় চলে গিয়েছিলেন।

তদন্তের আশ্বাস কর্তৃপক্ষের

শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান।

সিলেটের বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক আব্দুস সালাম বলেন, এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীপাঞ্জন ঘোষ প্রিয়ম শাবিপ্রবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রতনকান্দি গ্রামের কৃষ্ণ দুলাল ঘোষ ও চম্পা ঘোষের ছেলে।

তাঁদের পরিবার অবশ্য ঢাকার মোহাম্মদপুরে থাকে। প্রিয়ম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সুরমা আবাসিক এলাকার একটি মেসে থাকতেন। সহপাঠী ও শিক্ষকদের ভাষ্যে, তিনি ছিলেন মেধাবী ও বিনয়ী একজন শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন