EN ☀️
×

Follow Us

শিক্ষা

৩৬ হাজার স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক

৫৫ শতাংশ প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায়— একদিকে স্বাভাবিক পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার...

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৮ এএম

৩৬ হাজার স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের অর্ধেকের বেশি পদ শূন্য থাকায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

তদারকির অভাব, মানহীনতা ও ভয়াবহ শিক্ষকসংকটে জোড়াতালি দিয়ে চলছে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে মোট শূন্য পদের সংখ্যা ৫৬ হাজার ৩৯৫টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংকট প্রধান শিক্ষকের, যা অনুমোদিত পদের ৫৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। এতে একদিকে স্বাভাবিক পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৬ হাজার ২৩৫টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের পদ ফাঁকা রয়েছে ২০ হাজারের বেশি। ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় দুই শিক্ষক দিয়ে পুরো স্কুল চালানো কিংবা একাধিক শ্রেণির ক্লাস একসাথে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে এক বছরে শুধু ময়মনসিংহে শিক্ষার্থী কমেছে লক্ষাধিক। অনেক বিদ্যালয়ে বন্ধ রয়েছে বার্ষিক ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক আয়োজন ও বৃত্তি পাওয়ার ধারাবাহিকতা।

এ বিষয়ে ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ জানান, শিক্ষার মূল ভিতটাই গড়ে ওঠে প্রাথমিকে। এখানে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। এখানে বাচ্চারা পড়ে। তাদের মনস্তত্ত্ব বুঝে মোটিভেশন করার বিষয় আছে। এজন্য এখানে শুধু শিক্ষক নিয়োগই যথেষ্ট নয়, মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের জন্য আকর্ষণীয় বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মেধাবীরা আগ্রহী হন এবং তারা শিশুদের পেছনে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন। এ ছাড়া এই শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন করতে হবে।

শিক্ষকসংকট সর্বত্র

সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকসংকট তীব্র রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ায় ৮০৯টি, খুলনায় ৬০৫টি, গাজীপুরে ২৯৩টি এবং নারায়ণগঞ্জে ৩৪৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া ফরিদপুরে ৫১৫টি, রাজবাড়ীতে ২৭৯টি, বান্দরবান ১৭৪টি, রাজশাহীতে ৫৮৯টি এবং রংপুরের ৬৬৯টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। অন্যদিকে, বরিশাল বিভাগের ৬ হাজার ২৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২ হাজার ৫৯৯টিতেই প্রধান শিক্ষক এবং ৩ হাজার ২৯টিতে সহকারী শিক্ষকের পদ ফাঁকা পড়ে আছে।

শূন্যপদ পূরণে দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা সরকারের

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণ প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজন। এর মধ্যে সাড়ে ৩২ হাজার পদ একটি মামলায় আটকে ছিল। সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছিল না। গত জুলাইয়ে পদোন্নতি নিয়ে আইনি জটিলতা দূর হয়েছে। এখন শূন্যপদ পূরণে কীভাবে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া যায় তা নিয়ে আমরা সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করছি। আশা করছি আগামী এক-দেড় মাসের মধ্যে এ বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে পারব। সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পর দ্রুত সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণ করা হবে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন বলেন, ২০০৯ সাল থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে। ৮-৯ বছর আগে কিছু শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হলেও তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে অনেকে অবসরে গেছেন, অনেকে মারা গেছেন।

আরও পড়ুন