মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জবির কালীগঙ্গা বাসে হামলা, আহত অন্তত ১০
ডেইলি সান রিপোর্ট, জবি
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩২ পিএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের বহনকারী ‘কালীগঙ্গা’ বাসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধের জেরে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বনদক্ষিণ বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চালকসহ অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আহত শিক্ষার্থীদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানায় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে মানিকগঞ্জগামী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কালীগঙ্গা’ বাসটি মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বনদক্ষিণ বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) পরিবহন সম্পাদক মাহিদ হোসেন বাসে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। আমি বাইকে আছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পার হয়েছি। এখন পর্যন্ত যতটুকু তথ্য পেয়েছি, চালকসহ অনেকেই আহত হয়েছেন। একজন শিক্ষার্থীর মাথা ফেটেছে, আরও অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।”
জবির পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক বলেন, “মানিকগঞ্জে আমাদের একটি বাসে স্থানীয়রা সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করেছে। বাসের গ্লাস ভাঙচুর করেছে। আনুমানিক ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। দুজন গুরুতর আহত। তাঁদের মধ্যে একজনের মাথা ফেটে গেছে। আরেকজনের বুকে ভাঙা কাচ ঢুকেছে। আহত শিক্ষার্থীদের মানিকগঞ্জ ও সিংগাইর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
বাসে শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলার কারণ হিসেবে পরিবহন প্রশাসক বলেন, “হামলার শিকার বাসটি এর আগে একটি অটোরিকশাকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। কিন্তু অটোরিকশাচালক সাইড না দেওয়ায় আমাদের শিক্ষার্থীরা নেমে সম্ভবত অটোরিকশাচালককে ধাক্কা দিয়েছে। এর জেরেই তারা (অটোরিকশাচালক) স্থানীয় লোকজনসহ গাড়িতে হামলা চালিয়েছে।”
সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “সিংগাইর সড়কে একটি দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় একটি ঘটনায় বাসটিকে টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে। তবে জবির বাসটি এর সঙ্গে জড়িত নয় বলে নিশ্চিত হয়েছি। তারা (স্থানীয়রা) হয়তো মনে করেছে, এ ঘটনায় বাসটি জড়িত।”
তিনি আরও বলেন, “আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রক্টর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁরা মামলা করলে তা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক বলেন, “ইতোমধ্যেই আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মামলার বিষয়ে কথা বলেছি। হামলায় যারা নেতৃত্ব দিয়েছিল, তাদের কয়েকজনকে শনাক্ত করেছি। স্থানীয় ওসির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। মামলা রুজু হচ্ছে। আমি পথে আছি, মানিকগঞ্জে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।”