EN ☀️
×

Follow Us

শিক্ষা

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, কয়েকজন আহত

ছবি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ায় বেরোবি শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির; ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে আহত অন্তত ৫, ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪০ এএম

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, কয়েকজন আহত

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর থমথমে পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দিনব্যাপী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার পাশাপাশি ‘জুডিশিয়াল কিলিং’- এর শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় ওই ছবিগুলোর কয়েকটি নিয়ে আপত্তি তোলে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

ছাত্রদলের নেতারা দাবি করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বিতর্কিত ভূমিকা থাকা কয়েকজন ব্যক্তির ছবি প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। তারা এসব ছবি অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানান।

অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের বক্তব্য, প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত ছবি ও তথ্য তারা সরাবেন না। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা উত্তেজনায় রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার পর উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

এ সময় ইট-পাটকেল ও চেয়ার নিক্ষেপের পাশাপাশি লাঠিসোঁটা দিয়েও একে অপরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে উভয় সংগঠনের নেতাকর্মী রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে রাত পর্যন্ত তাদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। রাত ১২টা পর্যন্ত ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘একটি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা কোনো ধরনের সহিংসতাকে প্রশ্রয় দেই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’

এ বিষয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পাসে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুন