ছবি: সংগৃহীত
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের প্রথম বড় পাবলিক পরীক্ষা। এই পরীক্ষার ফল শুধু কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রেই নয়, পরবর্তী উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি, কারিগরি শিক্ষা এবং কিছু চাকরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এসএসসির ফলাফলকে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী সপ্তাহে প্রকাশ হতে পারে। ২০ জুলাইকে সামনে রেখে ফল প্রস্তুতের কাজ চলছে।
কলেজে ভর্তির প্রধান ভিত্তি
এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন হয়। শিক্ষার্থীর জিপিএ, মোট নম্বর এবং পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কলেজ নির্বাচন করা হয়। ফলে ভালো ফল করলে পছন্দের কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ বাড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতেও গুরুত্বপূর্ণ
উচ্চমাধ্যমিকের পর দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদনের ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসি—উভয় পরীক্ষার ফল বিবেচনায় নেওয়া হয়।
যেমন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনের জন্য দুই পরীক্ষার জিপিএর নির্দিষ্ট যোগফল থাকতে হয়। আবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং সরকারি মেডিকেল কলেজে আবেদনের জন্য বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে নির্ধারিত জিপিএ অর্জন বাধ্যতামূলক।
শিক্ষাবিদদের মতে, এসএসসি পরীক্ষার ফল একজন শিক্ষার্থীর মৌলিক শিক্ষার মান এবং কোন বিষয়ে তার দক্ষতা বা আগ্রহ রয়েছে, সে বিষয়েও ধারণা দেয়।
বৃত্তি ও কারিগরি শিক্ষায়ও প্রয়োজন
এসএসসিতে ভালো ফলের ভিত্তিতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন বৃত্তির সুযোগ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে যারা কারিগরি বা ডিপ্লোমা শিক্ষায় যেতে চান, তাদের জন্যও এসএসসির নির্ধারিত জিপিএ প্রয়োজন হয়। সরকারি পলিটেকনিক ও অন্যান্য কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সাধারণত ন্যূনতম জিপিএর শর্ত থাকে।
চাকরির ক্ষেত্রেও রয়েছে গুরুত্ব
কর্মজীবনে এসএসসির ফলের সরাসরি প্রভাব তুলনামূলক কম হলেও এটি শিক্ষাগত যোগ্যতার মৌলিক প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগসহ কিছু চাকরিতে এসএসসি ও এইচএসসির নির্দিষ্ট ফল চাওয়া হয়। এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির অনেক সরকারি চাকরিতে এসএসসি সনদ ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এসএসসি সনদ শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফল খারাপ হলেও হতাশ হওয়ার কারণ নেই
শিক্ষাবিদরা বলছেন, এসএসসি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই জীবনের শেষ কথা নয়। অনেক শিক্ষার্থী এসএসসিতে প্রত্যাশিত ফল না করেও এইচএসসি, বিশ্ববিদ্যালয় বা কর্মজীবনে বড় সাফল্য অর্জন করেছেন।
তাদের মতে, ভালো ফল অবশ্যই বাড়তি সুযোগ তৈরি করে। তবে পরিশ্রম, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং লক্ষ্যভিত্তিক প্রস্তুতিও একজন মানুষের ভবিষ্যৎ সাফল্যে সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই কাঙ্ক্ষিত ফল না এলেও হতাশ না হয়ে পরবর্তী ধাপের জন্য নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।