EN ☀️
×

Follow Us

শিক্ষা

খেলার মাঠে মাছ ছেড়ে ডাকসুর প্রতীকী প্রতিবাদ

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাবি

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:১২ পিএম

খেলার মাঠে মাছ ছেড়ে ডাকসুর প্রতীকী প্রতিবাদ

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দেওয়া দুই কোটি টাকার সংস্কারকাজ দীর্ঘদিনেও শুরু না হওয়ায় প্রতিবাদ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে জমে থাকা পানিতে দেশীয় প্রজাতির কৈ মাছ অবমুক্ত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতীকী কর্মসূচিতে ডাকসুর নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন হল সংসদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি জমে। ফলে বছরের পর বছর মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা, অনুশীলন ও বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন ব্যাহত হচ্ছে।

ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীবান্ধব উন্নয়নমূলক উদ্যোগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবরই বাজেট সংকটের কথা বলেছে। অথচ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু অর্থ পাওয়ার পরও মাঠ সংস্কারে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই শিক্ষার্থীরা এখনও জলাবদ্ধ মাঠে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে মাঠটিকে খেলাধুলার উপযোগী করার দাবি জানান তিনি।

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের কথা বললে প্রশাসন বরাবরই বাজেট সংকটের কথা জানাত। পরে ডাকসুর উদ্যোগে ইউজিসির মাধ্যমে মাঠ সংস্কারের জন্য দুই কোটি টাকা বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়।

তিনি জানান, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বরাদ্দের অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তহবিলে জমা হয়েছে। কিন্তু প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। মাঠ সংস্কার-সংক্রান্ত কমিটির প্রধান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের দায়িত্ব থাকলেও কাজের অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

সর্বমিত্র চাকমা আরও বলেন, বরাদ্দ নিশ্চিত হওয়ার পরও মাসের পর মাস সংস্কারকাজ আটকে রাখা প্রশাসনের অসহযোগিতার বহিঃপ্রকাশ। রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, অর্থ পাওয়ার পরই সংস্কারকাজ শুরু হলে আজ কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে হাঁটুসমান পানি জমে পুকুরের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। সেই ক্ষোভ থেকেই মাঠে জমে থাকা পানিতে দেশীয় কৈ মাছ অবমুক্ত করে প্রতীকী প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দ্রুত মাঠ সংস্কার, স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

আরও পড়ুন