মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় নোবিপ্রবি-ডিপিডিটির সমঝোতা স্মারক সই
ডেইলি সান রিপোর্ট, নোবিপ্রবি
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গবেষণা, উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্ব সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। একইসঙ্গে ‘পেটেন্টস টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন সাপোর্ট সেন্টার (টিআইএসসি) সার্ভিসেস’ বিষয়ে একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নোবিপ্রবির পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী এবং ডিপিডিটির পক্ষে মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলে (আইকিউএসি) বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও গবেষকদের অংশগ্রহণে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, এ যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক বিষয়ে আরও সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করবেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাস্বত্ব বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের উদ্ভাবনের পেটেন্ট সুরক্ষা সহজ হবে।
তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না; বরং এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুতই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবলসহ ‘টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন সাপোর্ট সেন্টার (টিআইএসসি)’ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
গবেষণায় বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, গবেষকের মৌলিক অবদান যাতে অন্য কেউ নিজের নামে দাবি করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, এ সমঝোতা গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর মাধ্যমে গবেষকদের উদ্ভাবন ও মেধার আইনগত এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা সহজ হবে।
কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য দেন ডিপিডিটির মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষক ও উদ্ভাবকদের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক নিবন্ধনে সহায়তা দিতে ডিপিডিটি কাজ করছে। নোবিপ্রবিতে টিআইএসসি প্রতিষ্ঠিত হলে গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে এবং গবেষকেরা আন্তর্জাতিক পেটেন্ট তথ্য ও প্রযুক্তিগত সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
নোবিপ্রবি ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন এবং টিআইএসসির ফোকাল পয়েন্ট অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ বলেন, এ কেন্দ্র গবেষক ও শিক্ষার্থীদের পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি সহায়তা দেবে। পাশাপাশি মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, পেটেন্ট অনুসন্ধান এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে গবেষণাকে বাণিজ্যিক সম্ভাবনায় রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, এর মাধ্যমে নোবিপ্রবির গবেষকদের সঙ্গে বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থার (ডব্লিউআইপিও) কার্যকর সংযোগও তৈরি হবে।
আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুন নবীর সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় ডিপিডিটির উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান এবং বিএনও লুব্রিক্যান্টস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের পরিচালক মো. সালাউদ্দিন ইউসুফ রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে ডিপিডিটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক (তথ্য ও জনসংযোগ) ইফতেখার হোসাইনসহ শিক্ষক ও গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন।