জ্বালানি সাশ্রয়ে শাবিপ্রবির বাস শিডিউলে বৈষম্যের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ট্রিপ কমেছে বেশি
ডেইলি সান রিপোর্ট, শাবিপ্রবি
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) পরিবহন ব্যবস্থায় আনা পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বাস ট্রিপ কমানোর ক্ষেত্রে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের তুলনায় শিক্ষার্থীদের ওপরই বেশি প্রভাব পড়েছে, যা বৈষম্যমূলক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শিডিউল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জ্বালানি সংকট শুরুর আগে, ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বরের শিডিউল অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য সিলেট নগরের বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন ৩৯টি বাস ট্রিপ পরিচালিত হতো। একই সময়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য ছিল ২৫টি ট্রিপ।
পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত শিডিউল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত (লাইব্রেরি ট্রিপ বাদে) শিক্ষার্থীদের জন্য দৈনিক ৩৬টি ট্রিপ চালু থাকলেও ১১ জুনের শিডিউলে তা কমে ৩৪টিতে নেমে আসে। আর ৮ জুন থেকে কার্যকর হওয়া নতুন পরিবহন ব্যবস্থায় ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীদের বাস ট্রিপ ৯টি থেকে কমিয়ে ৫টিতে আনা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে কমানো হয়েছে মাত্র একটি ট্রিপ।
শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অনেকের ব্যক্তিগত গাড়ি বা মোটরসাইকেল থাকলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস কিংবা স্থানীয় গণপরিবহনের ওপর নির্ভরশীল। বাসের ট্রিপ কমে যাওয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং স্থানীয় পরিবহনে চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকিও বেড়েছে। বিশেষ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ছিনতাইয়ের ঘটনার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আরিয়ান শেখ বলেন, জ্বালানি সংকটের অজুহাতে শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধাই সবচেয়ে বেশি সংকুচিত করা হয়েছে। তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের জন্য বাস ট্রিপ পাঁচ থেকে নয়টি পর্যন্ত কমানো হলেও শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে কমেছে মাত্র একটি। এটি শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের শামিল।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় অংশীজন শিক্ষার্থীরা হলেও প্রতিদিন তাদেরই বাস সংকট, অতিরিক্ত ভিড় ও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জ্বালানি সংকট যদি প্রকৃত কারণ হয়ে থাকে, তবে এর প্রভাব সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য আগের মতো পর্যাপ্ত বাসসেবা পুনরায় চালুর দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের কয়েকটি বাস ট্রিপ, বিশেষ করে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের বিভিন্ন রুটের বাস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এটি কোনো ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত নয়; প্রশাসনিক প্রয়োজন থেকেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসের সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এ কারণেই বিকেলের পরের কিছু বাস ট্রিপ স্থগিত রাখা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও এ পর্যন্ত প্রশাসনের কাছে কোনো লিখিত আবেদন জমা পড়েনি বলে জানান তিনি। লিখিত আবেদন পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং সরকারি নির্দেশনার আওতায় সম্ভব হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের সেবা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের দায়িত্ব। অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীও উপকৃত হলে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে সরকারি নির্দেশনা ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে ব্যবহৃত বাস ট্রিপসংক্রান্ত তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত পরিবহন শিডিউল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত। হিসাবের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরি ট্রিপ এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ক্লাব ট্রিপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।