হাসপাতাল চালুর দাবিতে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক অবরোধ
ডেইলি সান রিপোর্ট, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দ্রুত চালু এবং ক্লিনিক্যাল ক্লাস নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত রোডম্যাপ না পাওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টার দিকে কলেজের সামনে বাঁশ, চেয়ার ও বেঞ্চ ফেলে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘দালালি না, রাজপথ-রাজপথ’, ‘শিক্ষাজীবন নিয়ে ছিনিমিনি চলবে না’, ‘দাবি আদায়ের আন্দোলন চলছে, চলবে’ এবং ‘হাসপাতাল চালুর রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।
কর্মসূচির সময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও তারা অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম, তানভীর আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল নোমান, সাইদুল ইসলাম সাকিব, পিয়াস চন্দ্র দাস, ফয়সাল বাদশা, শীর্ষেন্দু বিশ্বাস রোহান ও কে এম সাজিদসহ অন্যরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা হাসপাতাল চালুর সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ লিখিতভাবে জানতে চাই। লিখিত আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরব না। বারবার মৌখিক আশ্বাসে আমরা হতাশ।
তারা বলেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কয়েক মাসের মধ্যে চালু করা সম্ভব হলেও সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বছরের পর বছর চালু না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে জেলার মানুষও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ৫০০ শয্যার ১০ তলা হাসপাতাল ভবনটি অযত্নে পড়ে রয়েছে এবং সেখানে কীটপতঙ্গের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। ২০২৪ সালের জুন এবং পরে ২০২৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে হাসপাতাল চালুর আশ্বাস দেওয়া হলেও ২০২৬ সালেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
তাদের দাবি, হাসপাতাল চালুসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ২১ জুন থেকে লাগাতার ক্লাস বর্জন, মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।