শাবিপ্রবির ছাত্রী হলে ফাটল: দুর্ঘটনা এড়াতে কক্ষ ত্যাগের নির্দেশ, ভোগান্তিতে ৩৬ শিক্ষার্থী
বিকল্প স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা ছাড়াই হঠাৎ কক্ষ ছাড়ার নির্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা
ডেইলি সান রিপোর্ট, শাবিপ্রবি
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
ছবি: ডেইলি সান
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রথম ছাত্রী হল ‘আয়েশা সিদ্দিকা হল’- এর একটি ব্লকে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো বড় দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতে ৯টি কক্ষের ৩৬ শিক্ষার্থীকে জরুরি ভিত্তিতে অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে হল প্রশাসন। তবে সন্তোষজনক বা স্থায়ী কোনো বিকল্প আবাসন না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্রীরা।
বুধবার (২৪ জুন) রাতে হলটির ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট ড. ফাহমিদা আখতার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
হল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হলের সি ব্লকের তৃতীয় তলার ৩২২, ৩২৩, ৩২৪ ও ৩২৫ নম্বর কক্ষ এবং চতুর্থ তলার ৪২২, ৪২৩, ৪২৪, ৪২৫ ও ৪২৬ নম্বর কক্ষের দেওয়ালে মারাত্মক ফাটল দেখা গেছে। পরে প্রকৌশল দপ্তরের পরামর্শে এই ৯টি কক্ষকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সেখানে থাকা ৩৬ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আপাতত তাঁদের হলের অতিথিকক্ষ, টিভি রুম, লন্ড্রি রুম, ডি ব্লকের রিডিং রুম এবং স্নাতকোত্তর শেষ করা শিক্ষার্থীদের খালি আসনে অস্থায়ীভাবে রাখা হচ্ছে।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি), প্রক্টর এবং ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক ফাটল ধরা সি ব্লকটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে রাতেই কক্ষ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে বিকল্প স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা ছাড়াই হঠাৎ কক্ষ ছাড়ার নির্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ভবনটির বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
আবাসিক শিক্ষার্থী নাজিবা উম্মে আইমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, রাত ৯টার দিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হঠাৎ করে তাঁদের রুম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিকল্প আবাসনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় ছাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, নিরাপত্তার কথা বলা হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সাময়িক অসুবিধা হলেও নিরাপত্তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সিলেট ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হওয়ায় ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। কোনো ধরনের জোরজবরদস্তির প্রশ্নই আসে না।’