প্রাথমিক গোল্ড কাপে ২২ লাখ শিক্ষার্থী, সরকারের লক্ষ্য ৫০ লাখ: মাহদী আমিন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবলের ফাইনাল উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠত হয়।
দেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ‘প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল’ টুর্নামেন্টে চলতি বছর ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। আগামীতে এই অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৫০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবলের ফাইনাল উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু সনদনির্ভর না রেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাগরিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।র
মাহদী আমিন জানান, চলতি বছরের ৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া প্রাথমিক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি বিদ্যালয়ের ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং সমসংখ্যক ছাত্রী অংশ নেয়। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ওঠা দলগুলো আগামী ২০ জুন জাতীয় আর্মি স্টেডিয়ামে ফাইনালে অংশ নেবে। ফাইনাল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “প্রথম বছরেই ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা পেলে আগামী আসরে এই সংখ্যা বাড়িয়ে অন্তত ৫০ লাখে নেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ের চতুর্থ শ্রেণি থেকে ‘স্পোর্টস’ ও ‘কালচার’ নামে দুটি নতুন বিষয় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তার ভাষ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার সমন্বয়ে এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা হবে, যারা বাস্তবমুখী জ্ঞান, দলগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করবে।
এ সময় তিনি জানান, কেবল খেলাধুলা নয়, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা বিকাশে সারা দেশে বিজ্ঞান, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী প্রকল্পভিত্তিক প্রতিযোগিতাও আয়োজন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ প্রতিযোগিতায় ১২ হাজার দল অংশ নিয়েছে, যেখানে প্রায় ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী ও ২৪ হাজার শিক্ষক সম্পৃক্ত রয়েছেন।
আগামী ২৯ জুন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসব উদ্ভাবনী প্রকল্পের জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে দেশের ২৯ হাজার ৬৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হবে।
মাহদী আমিন বলেন, “আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলবে আজকের শিক্ষার্থীরা। তাই তাদের মানবিক, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগোপযোগী পরিবর্তন আনছে।”