EN ☀️
×

Follow Us

শিক্ষা

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে বিয়ের পর নির্যাতনের অভিযোগ

ডেইলি সান রিপোর্ট, বেরোবি

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:২৮ পিএম

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে বিয়ের পর নির্যাতনের অভিযোগ
অ অ

প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতাকে বিয়ে করেন এক শিক্ষার্থী। তবে বিয়ের পর ওই শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

সোমবার (১৬ জুন) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জেবিন (ছদ্মনাম) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ফেরদৌস রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

অভিযোগে জেবিন দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পির সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ে না করে প্রতারণার চেষ্টা করলে পরিবারের পরামর্শে তিনি তাজহাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

তার অভিযোগ, ওই অভিযোগের পর মামলা এড়াতে গত ২৬ মার্চ তাকে বিয়ে করেন বাপ্পি।

ভুক্তভোগীর দাবি, বিয়ের পর থেকেই তার ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। অভিযুক্ত কোনো পেশায় যুক্ত না থেকে তার আয়ের ওপর নির্ভরশীল এবং জোরপূর্বক টাকা নিয়ে মাদক সেবন করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, বাপ্পির পরিবারের পক্ষ থেকে যৌতুক দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে পরিবারে মেনে নেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয় এবং একাধিকবার ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ফেরদৌস রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া সফররত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম শওকত আলী বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর লিখিত আবেদন প্রশাসন পেয়েছে। যেহেতু বিষয়টি পারিবারিক, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি করার সুযোগ সীমিত। তবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।

তিনি বলেন, “শুনেছি তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল এবং অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর এটি দ্বিতীয় বিয়ে। হয়তো এ বিষয়গুলো নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে। তবে কেউ প্রতারণা করে থাকলে, সে ছেলে বা মেয়ে—যেই হোক, অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাইদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, “জেবিন আমার বিবাহিত স্ত্রী, প্রেমিকা নন। এটি আমাদের ব্যক্তিগত বিষয়। তার আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমার ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্যই এ অভিযোগ করা হয়েছে।”

এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন