EN ☀️
×

Follow Us

শিক্ষা

সাড়ে ছয় মাসেও শেষ হয়নি শাবিপ্রবির ভর্তি কার্যক্রম, সেশনজটের শঙ্কা

উপাচার্য খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘ভর্তি প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে আমি দায়িত্ব পেয়েছি। আশা করছি পরবর্তী ভর্তি কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন হবে।’

ডেইলি সান রিপোর্ট, শাবিপ্রবি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম

সাড়ে ছয় মাসেও শেষ হয়নি শাবিপ্রবির ভর্তি কার্যক্রম, সেশনজটের শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

দীর্ঘ সাড়ে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বিভিন্ন বিভাগে সপ্তম ধাপের ভর্তি প্রক্রিয়া চলছে। ভর্তি কার্যক্রমের এই দীর্ঘসূত্রতায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে চরম সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত বছরের ৩১ নভেম্বর ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। চলতি জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন বা ক্লাস শুরুর কথা রয়েছে। ফলে পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতেই সময় লেগে যাচ্ছে প্রায় ৬ মাস ১৫ দিন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাধারণত ছয় মাসে যেখানে একটি পুরো সেমিস্টার শেষ হয়ে যায়, সেখানে শুধু ভর্তি হতেই সাড়ে ছয় মাস লাগায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও কারিগরি সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এদিকে ষষ্ঠ ধাপের ভর্তি শেষেও আসন পূরণ না হওয়ায় এখন সপ্তম ধাপে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে শাবিপ্রবির অবস্থান পিছিয়ে পড়ায় শিক্ষার মান ও ক্যাম্পাস পরিবেশ নিয়েও কথা উঠছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার বিন সেলিম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের মূল ভিত্তি তার শিক্ষার্থীদের মেধা, উদ্ভাবনী শক্তি ও শিক্ষার পরিবেশ। একসময় আমাদের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা নানা উদ্ভাবনী কাজে চমক দেখাত। কিন্তু এখন সেই পরিবেশ অনেকটাই অনুপস্থিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অন্যতম দাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ার পর পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও বঞ্চনার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় এখন শিক্ষার্থীদের চেয়ে প্রশাসনকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। এর প্রভাব পড়ছে পড়াশোনা, গবেষণা ও সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশে।’

ভর্তি কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ভর্তি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমেদ কবীর চৌধুরী ও সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. সেলিম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ভর্তি প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে দায়িত্বে এসেছি। পরবর্তী ভর্তি কার্যক্রম স্বাভাবিক ও সময়মতো সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন