জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাঙকে বর সাজিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় কলাভবনে, দেওয়া হয় বিয়ে
মূলত গ্রামবাংলায় চৈত্রের তীব্র খরায় বৃষ্টির আশায় ব্যাঙের বিয়ে দেওয়ার একটি লোকজ রীতি প্রচলিত রয়েছে।
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চৈত্রসংক্রান্তি ১৪৩২ উপলক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয়েছে ব্যাঙের ‘পান-চিনি’ বিয়ের এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবনের সামনে এ লোকজ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
কাঠ ও বাঁশের ওপর কাগজ দিয়ে তৈরি ব্যাঙের মোটিফ ব্যবহার করে এই কাল্পনিক বিয়ের আয়োজন করা হয়। এতে বরপক্ষ হিসেবে অংশ নেয় নতুন কলাভবন এবং কনেপক্ষ হিসেবে পুরাতন কলাভবন।
চৈত্রের শেষ বিকেলে নতুন কলাভবন থেকে বিয়ের গান বাজিয়ে, একটি ব্যাঙকে বর সাজিয়ে শোভাযাত্রার মাধ্যমে পুরাতন কলাভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গ্রামবাংলার প্রচলিত রীতির মতো কনেপক্ষ গেট আটকে দেয় এবং ৫ হাজার স্বর্ণমুদ্রা দাবি করে। তবে ব্যাঙের বিয়ে হওয়ায় বরপক্ষ দেশি মুদ্রা দিয়েই গেট অতিক্রম করে।
এরপর বর মঞ্চে বসার পর কনেপক্ষ কাগজ দিয়ে তৈরি কনে ব্যাঙ নিয়ে আসে।
দুই পক্ষের মধ্যে চলে রসিকতা ও সচেতনতামূলক কথোপকথন। অনুষ্ঠানে বরপক্ষকে মিষ্টিমুখ করাতে পরিবেশন করা হয় মুড়ি ও বাতাসা। পরে পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে ‘পান-চিনি’ বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
মূলত গ্রামবাংলায় চৈত্রের তীব্র খরায় বৃষ্টির আশায় ব্যাঙের বিয়ে দেওয়ার একটি লোকজ রীতি প্রচলিত রয়েছে। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতেই প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ যৌথভাবে এ আয়োজন করে থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ব্যাঙ প্রকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী, যা বৃষ্টির আগমনি বার্তা দেয়। প্রকৃতি, ব্যাঙ ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে স্মরণ করতেই এ আয়োজন করা হয়।
তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এ অনুষ্ঠান নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ আয়োজন অব্যাহত থাকবে।