EN ☀️
×

Follow Us

শিক্ষা

ববি ছাত্রলীগের সঙ্গে গোপন বৈঠক, ৪ জনকে থানায় নিল পুলিশ

ডেইলি সান রিপোর্ট, ববি

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম

ববি ছাত্রলীগের সঙ্গে গোপন বৈঠক, ৪ জনকে থানায় নিল পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গোপনে বৈঠকের অভিযোগে ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ছাত্রলীগ নেতা মইদুর রহমান বাকিসহ চারজনকে থানায় নিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার ( ৩ এপ্রিল) রাত দশটার দিকে বরিশাল শহরের রূপাতলি হাউজিংয়ের ২২নং ওয়ার্ডের ছায়া নিকেতন নামে ববি শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান তমাল ওরফে এমএইচ তমালের ভাড়া মেসে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতা মইদুর রহমান বাকি ও এমএইচ তমালসহ চারজনকে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে ঐ বাসা তল্লাশি করা হয়। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রূপাতলি ২২নং ওয়ার্ডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী  ইমন ও তমালের বাসায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা মইদুর রহমান বাকিসহ ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীরা প্রায়ই ঐ বাসায় জড়ো হন গোপনে বৈঠকের জন্য । আজও এমন সংবাদের ভিত্তিতে রাত নয়টার দিকে বাসাটিকে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অবরুদ্ধ করে পুলিশকে ছাত্রলীগের গোপন বৈঠকের বিষয়ে অবহিত করে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রাত ১০টার দিকে তমালের মেস তল্লাশি করে চারজনকে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়। 

পুলিশের হেফাজতে নেয়া ঐ চারজন হলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান তমাল, মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আকরাম খান ইমন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী মহিদুর রহমান বাকী এবং রাকিব হাসান রনি।

পাশের একটি বাসার ভাড়াটিয়া প্রত্যক্ষদর্শী সোহান বলেন, "সবার চিল্লাচিল্লিতে বাসার নিচে এসে শুনছি ছাত্রলীগ আটক করেছে। পরে বাসায় তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ কয়েকজনকে থানায় নিয়ে গেছে।"

ছাত্রলীগ নেতা মইদুর রহমান বাকিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। এমএইচ তমালের বিরুদ্ধেও একাধিক মাদক ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। তমালের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। আটক হওয়া আরেক শিক্ষার্থী ইমনের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। রূপাতলির ভাড়া বাসায় তারা মাদক কারবারি করে বলে একাধিক অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। 

এবিষয়ে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, রুপাতলি হাউজিং এ ২২নাম্বার রোডে ছায়া নিকেতন বাস ভবনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই সময়ে যারা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিতো তারাসহ মহানগর ছাত্রলীগ একত্রিত হয়ে আবার তারা তাদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য গোপন ষড়যন্ত্রের লিপ্ত হয়। আমাদের কাছে খবর আছে এই বাসায় মাদকের কারবার চলে। আমরা খবর পেয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে পুলিশকে খবর দেয়। 

অভিযুক্তদের একজন মাহমুদুল হাসান তমাল অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো দাবি করেন, "আমার এই ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী গ্যানজামে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্য আসছে ছাত্রদলের কিছু পোলাপান। আমি তাদের বলছি, আমি তোমাদের ভার্সিটির বড় ভাই আছি। আমি এই বাসায় থাকি আমি এ বিষয়টি দেখতেছি পুলিশের উপস্থিতে। তাদের চাঁদাবাজিতে বাঁধা দেওয়ার কারণে তারা এই মব সৃষ্টি করছে।"

বরিশাল কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত ) বলেন, "আমরা বাসায় তল্লাশি চালিয়েছি এখন ওনাদের রেসকিউ করার জন্য ধরে থানায় নিয়ে যাচ্ছি।"

আরও পড়ুন