বাবা বই পড়তে ভালোবাসেন। বাড়িতে বড়দের বইয়ের সঙ্গে ছোটদের বইপত্রও আছে। বড় ছেলেটি দুরন্ত স্বভাবের। তবে বইয়ের প্রতি খুবই আগ্রহী। ছোটদের উপযোগী বইগুলো পড়ে ফেলেছে। বড়দের মোটা একটা উপন্যাস চোখে পড়েছে।
নাম ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’। লেখক বিমল মিত্র। দুই খণ্ডের এই বিশাল উপন্যাসটি নিয়ে রসিক পাঠক ঠাট্টা করতেন, ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম, দড়ি দিয়ে বাঁধলাম’। ওই বই ছোটদের ধরা নিষেধ।
তখনকার দিনে পাঠ্যবইয়ের বাইরের বইগুলোকে বলা হতো ‘আউট বই’। ‘উপন্যাস’ শব্দটি কেউ বলতেন না, বলতেন ‘নভেল’। মা-বাবা বা গুরুজনরা ছেলেমেয়েদের ‘আউট বই’ বা ‘নভেল’ পড়তে দেখলে বিরক্ত হতেন, শাসন-বারণ করতেন। ছেলেটির নজর পড়েছে ওই বইতে। বইটি সে পড়বেই।
বই নিয়ে ঢুকে গেল খাটের তলায়। সেখানে বসে বসে পড়ে। একদিন মায়ের কাছে ধরা পড়ে গেল। মা বিচার দিলেন বাবার কাছে। তাঁরা থাকেন সিলেটের মিরাবাজারে। সব শুনে বাবা কোনো কথা বললেন না। পরদিন নয়-দশ বছরের ছেলেটিকে নিয়ে গেলেন সিলেটের বিখ্যাত ‘মুসলিম সাহিত্য সংসদ’ পাঠাগারে। সেখানে হাজার হাজার বই। ছেলেকে মেম্বার করে দিলেন। মিরাবাজার থেকে ‘মুসলিম সাহিত্য সংসদ’ বেশ দূরে। ছেলেটি তার ছোট বোনকে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সেই লাইব্রেরিতে যায়। তিনটা-চারটা করে বই নিয়ে আসে। একদিন বাড়ি ফেরার পথ হারিয়ে ফেলল। এক সহৃদয় রিকশাঅলা তাদের বাড়ি পৌঁছে দিয়ে যায়। এই ছেলেটির নাম ‘হুমায়ূন আহমেদ’। তিনি তাঁর ‘কিছু শৈশব’ নামের স্মৃতিকথায় এই ঘটনা লিখেছেন।
পাঠাগারে বই পড়ে সবাই যে লেখক হবেন, এমন কথা নেই। তবে বই পড়ে যে প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ভালো বই মানুষের মনোজগৎ আলোকিত করে। মানুষের মধ্যে তৈরি করে মানবিক গুণাবলি। মানুষকে জীবন ও জগৎ সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। একেকটি ভালো বই জগতের একেকটি দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার বাইরেই আলোকিত বিশ্ব। জ্ঞানের অপরিসীম ভাণ্ডার। বই মানুষকে টেনে নেয় সেই আলোর জগতে। বইপড়া মানুষের জীবনে অন্ধকার থাকে না। বইয়ের চেয়ে বড় বন্ধু বা পথপ্রদর্শক আর কেউ নেই। হাজার হাজার বছর ধরে মানবজাতির পথপ্রদর্শক হিসেবে প্রধান ভূমিকা রেখেছে বই। পবিত্র কোরআনের প্রথম নাজিল হওয়া আয়াতেই আছে পড়ার নির্দেশ। মহান আল্লাহপাক বলেন ‘পড়ো তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা আলাক, আয়াত ১)।
পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়াতে ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘সীমান্ত গ্রন্থাগার’। এই পাঠাগারটি না থাকলে আমি লেখকই হতাম না। গেন্ডারিয়ার প্রায় প্রতিটি পরিবারের মানুষজনই এই পাঠাগারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ছেলেমেয়েরা পাঠাগারে আসত, সেখানে বসে বই পড়ত, বাড়ির জন্য বই নিয়ে যেত। দুপুরের পর অবসর সময়ে মা-খালারা বই পড়তেন। শুধু পড়াই নয়, যে বইটি পড়া হয়েছে সেই বই নিয়ে আলাপ আলোচনাও হতো। কোথায় হারিয়ে গেছে সেই সব বই পড়ার দিন! ‘সীমান্ত গ্রন্থাগার’ এখনো আছে; কিন্তু পাঠাগারের ভেতরকার সেই জমজমাট দৃশ্যটি আর চোখে পড়ে না। পাঠাগার খোলা হয় ঠিকই, বিশেষ কেউ সেখানে আর বই পড়তে যায় না। বইয়ের র্যাকগুলো ধুলায় ধূসর হয়ে থাকে। এই পাঠাগারটি ধন্য হয়ে আছে একটি বিশেষ কারণে। তিয়াত্তর সালের শেষ দিককার এক বিকেলে আমি আর আমার বন্ধু কামাল আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে এই পাঠাগারে নিয়ে এসেছিলাম। কবির নাতনি খিলখিল কাজী আমাদের খুব সাহায্য করেছিলেন।
আগে প্রত্যেক পাড়া-মহল্লায় পাঠাগার ছিল। মানুষ পাঠাগারে বসে বই পড়তেন। বাড়িতে বই এনে পড়তেন। শহরে তো পাঠাগার ছিলই, গ্রামেগঞ্জেও ছিল। পাঠাগার ঘিরে গড়ে উঠত একটি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল। আমাদের সেই জায়গাগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আর পাঠাগার সেভাবে চোখে পড়ে না। বহু পাঠাগার বন্ধ হয়ে গেছে। আগের দিনের জমিদার কিংবা বিত্তশালী মানুষ নিজ এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতেন। সেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খুবই শক্তিশালী একটি পাঠাগার থাকত। কত কত বই সেই সব পাঠাগারে। বেশ কিছু বছর আগে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুরের ‘ইছাপুরা হাইস্কুল’-এ গিয়েছিলাম। প্রতিষ্ঠানটি এখন বোধহয় কলেজে রূপান্তরিত হয়েছে। সেখানকার লাইব্রেরিটি দেখে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। কতসব দুষ্প্রাপ্য বইয়ে ভরেছিল লাইব্রেরিটি। এখন সেই লাইব্রেরিটির কী অবস্থা তা আমি আর জানি না।
কোনো কোনো জমিদারবাড়িতেও থাকত লাইব্রেরি। বনেদি মুসলিম পরিবারগুলোতে থাকত। লাইব্রেরি না হোক, একটা-দুটো বইয়ের আলমারি প্রায় সব শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারেই থাকত। সেই সব আলমারিতে থাকত বিখ্যাত সব কবি-সাহিত্যিকের বই। বাড়ির শিশুটি বড় হতো বই দেখে। কৌতূহলবশে একটি বই বের করে নেড়েচেড়ে দেখত। ধীরে ধীরে তৈরি হতো তার বই পড়ার অভ্যাস। আমাদের বইয়ের আলমারিগুলো কবে কোন ফাঁকে যে হারিয়ে গেল, আমরা তা টেরই পেলাম না! বইয়ের আলমারির জায়গায় এলো একটি টেলিভিশন। তারপর এলো কম্পিউটার। তারপর এলো মোবাইল ফোন। ধীরে ধীরে আমাদের শিশুরা বইয়ের প্রতি কৌতূহল হারিয়ে ফেলল। নানা রকম ডিভাইসে আসক্ত হয়ে গেল। তাদের জীবন আটকে গেল কম্পিউটার কিংবা মোবাইল স্ক্রিনে। পড়ার অভ্যাস আর বইয়ের প্রতি মমত্ববোধ কমে গেল।
অনেকে বলেন, না না, পড়ার অভ্যাস কমেনি। এখনকার ছেলেমেয়েরা পড়ছে অন্যভাবে। অনলাইনে। বিভিন্ন ফরমেটে। আসলে কী তাই? কে কতটা পড়ছে, তা আমি মাঝেমধ্যে টের পাই। ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ’র কল্যাণে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায়ই সভাসমাবেশ করি। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত নিই। তাদের কারো কারো কথা শুনে বিস্মিত হই! আজকালকার ছেলেমেয়েরা অনেকেই নাকি বাংলা পাঠ্যবইটি পর্যন্ত পুরোটা পড়ে না। শিক্ষক হয়তো বলে দেন, এই এই গল্প, কবিতা আর প্রবন্ধ পড়ো। ওসব থেকেই প্রশ্ন আসবে। ছেলেমেয়েরা ওর বাইরে কিছু পড়ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া কোনো কোনো ছেলেমেয়েকে জিজ্ঞেস করেছি, রবীন্দ্রনাথের ‘পোস্টমাস্টার’ গল্পটা পড়েছ? না, পড়েনি। নজরুলের ‘পদ্মগোখরো’ পড়েছ? না, পড়েনি। কিন্তু এসব লেখা তো তাদের স্কুল পাঠ্যবইতেই ছিল! কেন পড়েনি? শিক্ষকরা হয়তো বলেছেন, ওসব গল্প থেকে পরীক্ষায় কোনো প্রশ্ন আসবে না, এ জন্য পড়েনি। আমাদের সময়ে এই অবস্থাটা ছিল না। নতুন বই হাতে পেলে প্রথমেই আমরা বাংলা বইটি আগাগোড়া পড়ে ফেলতাম। আর এখন? স্যাররা সহজ পথ দেখিয়ে দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীরাও চলছে সেই পথে। সব শর্টকাট হয়ে গেছে। কম পরিশ্রমে কত ভালো ফল করা যায়!
বলছিলাম পাঠাগারের কথা। স্কুল-কলেজগুলোতে খুবই সমৃদ্ধ একটি পাঠাগার থাকত। ছুটির আগের দিন সেই পাঠাগার থেকে বই দেওয়া হতো ছাত্রদের। পাঠ্যবই পড়ার ফাঁকে ফাঁকে ওই বইটি পড়ে আসতে হবে এক সপ্তাহের মধ্যে। স্যাররা জানতে চাইতেন, ঠিকমতো পড়া হয়েছে কি না। সেই বই থেকে প্রশ্নও করতেন। এখন তো বেশির ভাগ স্কুলে শুনি লাইব্রেরিই নেই। অনেক কলেজেও নেই। থাকলেও সেই সব লাইব্রেরিতে শুধুই পাঠ্যবই, অথবা নোট-গাইড। সৃজনশীল কিংবা মননশীল বইয়ের জায়গাই নেই। পড়ার অভ্যাসটা তাহলে তৈরি হবে কিভাবে? পাড়ায়-মহল্লায় তো পাঠাগার নেই! বইয়ের দোকানগুলোতে পাঠ্যবই আর নোট-গাইড ছাড়া কিচ্ছু নেই। লঞ্চঘাটে আর ট্রেন স্টেশনে কত বইয়ের দোকান ছিল। সেই সব উধাও হয়ে গেছে। বই ফেরি করে বিক্রি করতেন এক ধরনের ফেরিওয়ালা। তাঁরা বিলুপ্ত হয়ে গেছেন। রাস্তার মোড়ে মোড়ে পত্রিকার স্টল ছিল। সেখানে পত্রপত্রিকার সঙ্গে বিক্রি হতো গল্প-উপন্যাসের বই। সেই সব উধাও হয়ে গেছে। আগে বইয়ের দিকে মাথা ঝুঁকে থাকত মানুষের। এখন ঝুঁকে থাকে মোবাইল স্ক্রিনের দিকে। বই পড়ে মানুষ একসময় মাথা উঁচু করে বাঁচতে শিখত। এখনকার প্রজন্ম মোবাইল স্ক্রিন থেকে মুখই তো ফেরাতে চায় না, ঝুঁকে থাকা মাথা কোন মন্ত্রবলে উঁচু করতে শিখবে?
এ সবই হতাশার কথা। তবে এই অবস্থাতেও আলোর শিখা জ্বলে উঠতে দেখছি কোথাও কোথাও। গত প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে ‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র’ চালিয়ে যাচ্ছেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। ‘আলোকিত মানুষ চাই’ এই স্লোগান বুকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। বইপড়া বিষয়টিকে সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গ্রহণ করেছেন স্যার। বিভিন্ন পদ্ধতিতে ছেলেমেয়েদের হাতে বই তুলে দিচ্ছেন। ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি করে বই পৌঁছে দিচ্ছেন ঘরে ঘরে। ‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে’র আলোয় এই পাঠবিমুখকালেও আলোকিত হচ্ছে অনেকখানি জায়গা। সারা দেশের ছেলেমেয়েদের নিয়ে বই উৎসব করছে। ‘বিকাশ’ এই কার্যক্রমে চার লাখ বই দিয়ে সহযোগিতা করেছে। আমরা ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ’ থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তৈরি করেছি ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ পাঠাগার’।
অথৈ দাসের কথা পড়লাম পত্রিকায়। তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। ‘বুকস এন্ড মোর উইথ অথৈ’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন। দেড় লাখেরও বেশি তাঁর অনুসারি। এই পেজের মাধ্যমে তিনি পাঠকদের বই পড়তে উৎসাহিত করেন। অথৈ দাস বিক্রমপুরের মেয়ে। তাঁর সংগ্রহে পাঁচ হাজারের মতো বই আছে। এই মেয়ে সম্পর্কে জেনে আমার খুবই ভালো লাগল। কেউ বই নিয়ে মেতে আছেন, শুনলেই আমি আনন্দিত হই। কোনো কোনো তরুণ নিজের চায়ের দোকানের এক পাশে বুকশেলফ ভর্তি করে রেখেছেন বইয়ে। তার খদ্দেররা কেউ কেউ বই পড়ছেন। এ এক রকমের পাঠাগার, টিস্টল পাঠাগার। সেলুনের ভেতরে বই পড়ার ব্যবস্থা করেছেন কেউ কেউ। তাও পাঠাগার-বিশেষ, সেলুন পাঠাগার। রেস্টুরেন্টে করেছেন একই ব্যবস্থা, রেস্টুরেন্ট পাঠাগার। ব্যক্তি উদ্যোগে কোনো কোনো তরুণ কিংবা বইপ্রেমী মানুষ আক্ষরিক অর্থেই পাঠাগার গড়ে তুলছেন। অনলাইনভিত্তিক পাঠাগারও করছেন কেউ কেউ। বিভিন্ন পদ্ধতিতে মানুষকে বই পড়াতে চাচ্ছেন। তাঁদের কারো কারো সাফল্যের খবরও আমরা পাই।
তরুণদের প্রতি আমার আস্থা বরাবরই। আমি বিশ্বাস করি, সব বদলের চাবিকাঠি তরুণদের হাতে। তাঁরা চাইলে অনেক কিছুই বদলে দিতে পারেন। বইবিমুখ মানুষকে চাইলেই বইয়ের কাছে টেনে আনতে পারেন, বইমুখী করে তুলতে পারেন।
১৮৮২ সালের ১৪ এপ্রিল লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন চারণকবি শেখ ফজলল করিম। কাব্যরচনায় অসামান্য অবদানের জন্য ‘সাহিত্য বিশারদ’ ‘কাব্যরত্নাকর’ ও ‘নীতিভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। সব মিলিয়ে তঁঁর গ্রন্থসংখ্যা ৪৫। ‘লাইলী মজনু’, ‘তৃষ্ণা’, ‘ভগ্নবীণা’ এই সব গ্রন্থের রচয়িতা তিনি। লালমনিরহাট ও বুড়িমারী মহাসড়কের পাশে ২০০৫ সালে নির্মিত হয়েছিল ‘কবি শেখ ফজলল করিম স্মৃতি পাঠাগার’। বর্তমান সরকারের ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর উদ্যোগে নির্মিত হয়েছিল পাঠাগারটি। তখন তিনি তৎকালীন সরকারের ত্রাণ উপমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু এই পাঠাগারটি এখন আর সেই অবস্থায় নেই। বহু বছর ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এ এক দুঃখজনক ঘটনা। কবি শেখ ফজলল করিমের নামই তো আমরা বিস্মৃত হতে বসেছি! অথচ তাঁর একটি কবিতার লাইন আমাদের অনেকেরই স্মরণে আছে। শুধু কবির নামটিই আমরা মনে রাখিনি। ‘কোথায় স্বর্গ/কোথায় নরক কে বলে তা বহুদূর/মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক/মানুষেতে সুরাসুর।’