সিটি গ্রুপের ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিলের পরামর্শ বাংলাদেশ ব্যাংকের
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপের ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিলের পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রুপটির প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ আপাতত খেলাপি হিসেবে নথিভুক্ত না করে ব্যবসা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশি-বিদেশি ৪৭টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে গ্রুপটির এই ঋণ রয়েছে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এ পরামর্শ দেওয়া হয়। বৈঠকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদ ও সরোয়ার হোসেন, ঋণদাতা কয়েকটি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী এবং সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংক সিটি গ্রুপের ঋণ খেলাপি হিসেবে নথিভুক্ত করে তা আদায়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এর আগে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রুপটির ঋণ খেলাপি না করার নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কয়েকটি ব্যাংক ঋণগুলো খেলাপি হিসেবে নথিভুক্ত করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, কোনো ব্যাংকে ঋণ খেলাপি হলে অন্য ব্যাংক থেকেও ঋণসুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে সিটি গ্রুপের ব্যবসা আরও সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না, যাতে গ্রুপটির ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিলের সুবিধা দেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়।
বৈঠকে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর পক্ষে সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ব্যাংক এশিয়ার এমডি সোহেল আর কে হুসেইন, ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি তারেক রেফাত উল্লাহ খান, প্রাইম ব্যাংকের এমডি ফয়সাল রহমান, ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি হাসান ও. রশিদ, পূবালী ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ আলী এবং সাউথইস্ট ব্যাংকের এমডি খালিদ মাহমুদ খানসহ বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সিটি গ্রুপ আগে কখনো খেলাপি হয়নি এবং গ্রুপটির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও নেই। সবাই চায়, গ্রুপটি বর্তমান সংকট কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ব্যাংকগুলোকে এমন সিদ্ধান্ত না নিতে বলেছে, যাতে গ্রুপটির পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
