প্যাকেটজাত খাদ্যে সতর্কবার্তা নিয়ে প্রচারণা শুরু
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয় সহজে চেনাতে দেশে প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা শুরু হয়েছে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সভাকক্ষে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। দুই মাসব্যাপী এ প্রচারণার লক্ষ্য, প্যাকেটজাত খাদ্যের মোড়কের সামনে সতর্কবার্তা বা ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা। পাশাপাশি এ বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে সরকারের উদ্যোগে জনসমর্থন জোগানো।
প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান), ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্ট, কোয়ালিশন ফর হেলদি ফুড এবং সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ) যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
বাংলাদেশে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে অসংক্রামক রোগের (এনসিডি) বোঝা বাড়ছে। দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী এসব রোগ। এর মধ্যে হৃদ্রোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস অন্যতম প্রধান কারণ।
দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ৩১ দশমিক ৮ শতাংশের ওজন অতিরিক্ত। আর ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ স্থূলতায় আক্রান্ত। অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয়ের মোড়কের সামনের অংশে সতর্কতামূলক লেবেল থাকলে তাতে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বি রয়েছে কি না, তা সহজে শনাক্ত করতে পারবেন ভোক্তারা। পুষ্টি-সংক্রান্ত তথ্য স্পষ্ট ও সহজবোধ্যভাবে তুলে ধরতে এ লেবেলে অষ্টভুজ আকৃতির সতর্কবার্তা ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে মানুষ সচেতনভাবে খাবার বেছে নিতে পারবেন। একই সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর পণ্য কেনার প্রবণতা কমতে পারে।
আয়োজকেরা বলছেন, খাদ্যপরিবেশ উন্নত করা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে সৃষ্ট রোগের বোঝা কমাতে এ ধরনের লেবেলিং একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রমাণভিত্তিক নীতি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রচারণার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত অস্বাস্থ্যকর প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে কাজ চলছে। এসব পণ্যের মোড়কের সামনে সতর্কবার্তা দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রবিধানমালা প্রণয়নের কাজও করছে কর্তৃপক্ষ।
ভিডিও ও অডিও বিজ্ঞাপন, স্থিরচিত্র এবং জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন উপকরণের মাধ্যমে এ প্রচারণা চালানো হবে। টেলিভিশন, রেডিও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন ও মুদ্রিত সংবাদপত্র এবং গুগল বিজ্ঞাপনে প্রচারণার উপকরণ প্রচার করা হবে। অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব উপকরণ প্রকাশ করা হবে।
প্রচারণার মাধ্যমে প্রচলিত প্যাকেটজাত খাবারে থাকা অস্বাস্থ্যকর উপাদান এবং অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বির ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয়ের মোড়কের সামনে সতর্কতামূলক লেবেল চালুর বিষয়ে প্রবিধানমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা করাও এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সোহেল রেজা চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্যশিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের পরিচালক ইকবাল মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের এবং সিএলপিএর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম।