EN ☀️
×

Follow Us

অর্থনীতি

প্যাকেজিং খাতের দক্ষতা বাড়াতে বিপিএএমইএর তিন দিনের প্রশিক্ষণ শুরু

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

প্যাকেজিং খাতের দক্ষতা বাড়াতে বিপিএএমইএর তিন দিনের প্রশিক্ষণ শুরু
অ অ

প্যাকেজিং ও এক্সেসরিজ খাতের কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নে তিন দিনের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শনিবার সকালে ঢাকার বনানীর হোটেল দ্য রেইনট্রিতে এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়।

বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড এক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএএমইএ) উদ্যোগে এবং এশিয়ান প্যাকেজিং ফেডারেশনের (এপিএফ) সহযোগিতায় ২৪ থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত ‘সাসটেইনেবল অ্যান্ড কোয়ালিটি প্যাকেজিং ফর লোকাল অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেট’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান শিল্পী বেগম, এপিএফ ও বিপিএএমইএর সাবেক সভাপতি সফিউল্লাহ চৌধুরী এবং বিপিএএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) মোজাহারুল হক শহীদ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিপিএএমইএর বিপা এবং টেস্টিং ল্যাব, সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম কমিটির আহ্বায়ক মনির উদ্দিন আহমেদ, পরিচালক কাজী আশরাফুল হক জুয়েল ও এটিএম কামরুজ্জামান, মেলা কমিটির চেয়ারম্যান হাসানুল করিম তমিজসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা। সংগঠনের সচিব এম. মাসুদুর রহমান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিপিএএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার।

আয়োজকেরা জানান, প্যাকেজিং ও এক্সেসরিজ খাতের উদ্যোক্তা, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানো এবং উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান উন্নত করাই এ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন স্টাডিজ বিভাগের পাঁচজন শিক্ষার্থী এবং বিপিএএমইএর সদস্যপ্রতিষ্ঠানের ৩০ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে প্রশিক্ষণার্থী ৩৫ জন।

প্রশিক্ষক হিসেবে রয়েছেন এশিয়ান প্যাকেজিং ফেডারেশনের সম্মানসূচক সদস্য ও সাবেক সচিব এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব প্যাকেজিংয়ের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা। অন্য প্রশিক্ষক শ্রীলঙ্কার পলিপ্যাক সেকো লিমিটেডের প্রকৌশল বিভাগের প্রধান এবং প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন বিশেষজ্ঞ প্রাসাদ লাসান্থা কুরুকুলারাচি।

প্রশিক্ষণে প্যাকেজিংয়ের বিভিন্ন ধরন, গুণগত মান পরীক্ষার পদ্ধতি, ঢেউতোলা ফাইবার বক্স ও বোর্ড, প্লাস্টিক প্যাকেজিং এবং প্যাকেজিংয়ের গুণগত মান মূল্যায়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিপিএএমইএর কমিটির আহ্বায়ক মনির উদ্দিন আহমেদ কর্মসূচির পটভূমি তুলে ধরেন। তিনি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

বিশেষ অতিথি সফিউল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিশ্ববাজারে প্যাকেজিং শিল্পের চাহিদা এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে বাংলাদেশ থেকে এ খাতের পণ্যের রপ্তানি তুলনামূলকভাবে কম। তাঁর মতে, এ খাতের প্রতি সংশ্লিষ্টদের যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়া এবং এ বিষয়ে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব এর অন্যতম কারণ।

প্রধান অতিথি মোহাম্মদ হাতেম বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজনকে স্বাগত জানান। তিনি প্যাকেজিং ও এক্সেসরিজ খাতকে পোশাকশিল্পের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এ খাতের প্রচ্ছন্ন রপ্তানির পরিমাণ ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর বাইরে প্রত্যক্ষ রপ্তানির পরিমাণ ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। দেশের মোট রপ্তানিতে এ খাতের অবদান তাৎপর্যপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য তিনি বিপিএএমইএকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে সংগঠনের সভাপতি ও তরুণ নেতাদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। পরে তিনি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে মো. শাহরিয়ার প্রশিক্ষণ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত কমিটির আহ্বায়ক মনির উদ্দিন আহমেদ এবং বিপিএএমইএর সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি সংগঠনকে যথাযথভাবে পরিচিত করে তোলা এবং খাতটির উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

মো. শাহরিয়ার বলেন, ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে এ খাতের প্রচ্ছন্ন রপ্তানির পরিমাণ ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পাশাপাশি প্রত্যক্ষ রপ্তানি হয় ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। তাঁর দাবি, বর্তমানে বাংলাদেশের এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাত স্বয়ংসম্পূর্ণ। করোনা মহামারির সময় এ সক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, এমন কোনো পণ্য নেই, যার জন্য প্যাকেজিংয়ের প্রয়োজন হয় না। এ খাতের মালিক ও কর্মীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে এখন পর্যন্ত খাতটিতে শ্রমিক অসন্তোষের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মো. শাহরিয়ার বলেন, এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্যাকেজিং ও এক্সেসরিজ খাতে চাকরির বড় সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন