প্রণোদনার ঋণ বিতরণে স্থবিরতা, চার মাসে ছাড় ১০ হাজার কোটি
বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতে ঋণ মাত্র ৫০ কোটি, শর্ত শিথিলের দাবি ব্যবসায়ীদের
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
বন্ধ কারখানা চালু, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ বিতরণে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। চার মাসে ঋণ বিতরণ হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য বরাদ্দ ২০ হাজার কোটি টাকা থেকে ঋণ দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫০ কোটি টাকা। পুরো প্যাকেজে সরাসরি ঋণগ্রহীতাদের হাতে পৌঁছেছে ১ হাজার কোটি টাকারও কম।
ঋণ বিতরণে ধীরগতির জন্য ব্যবসায়ী ও ব্যাংকাররা পরস্পরকে দায়ী করছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে আগ্রহী নয়। অন্যদিকে ব্যাংকারদের দাবি, খেলাপি ঋণের চাপ, জামানতের ঘাটতি এবং অসম্পূর্ণ কাগজপত্রের কারণে ঋণ অনুমোদনে সময় লাগছে। মামলা প্রত্যাহারের শর্তও এ ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করছে।
ঋণের শর্ত শিথিলের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, খেলাপি ঋণসংক্রান্ত শর্ত সহজ করা, বন্ধ কারখানার সম্ভাবনা যাচাই করে অর্থায়ন এবং দ্রুত ঋণ অনুমোদন ও অর্থছাড় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, বন্ধ কারখানায় ঋণ দিয়ে ব্যাংকগুলো ঝুঁকি নিতে চায় না। চলতি মূলধনের সংকটে থাকা এবং বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সহায়তা দেওয়া উচিত।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, নতুন কারখানা স্থাপনের চেয়ে বন্ধ কারখানা চালু করা তুলনামূলক সহজ। তাই প্রণোদনার ঋণ বিতরণ বাড়াতে কিছু শর্ত শিথিল করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই করে যোগ্য উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে হবে। শুধু লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য ঋণ দেওয়া হলে ব্যাংক খাতে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ চলছে। ব্যাংকগুলোর পাঠানো আবেদন যাচাই করে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। মামলা প্রত্যাহারের পর আবেদন বাতিল হলে পুনরায় মামলা করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্যাকেজের আওতায় ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে।
