এপ্রিল-জুন প্রান্তিক
দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লো ১২.৭৮%
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) প্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নিট এফডিআই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে ৩৪৬ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
দেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বিনিয়োগ করা মুনাফা এ প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ইনভেস্ট বাংলাদেশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এতে জানানো হয়েছে, এ সময়ে নিট পুনর্বিনিয়োগকৃত আয় ৫৫ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ২৬০ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশে ব্যবসা করে অর্জিত মুনাফার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে না নিয়ে এ দেশেই পুনরায় বিনিয়োগ করছেন।
এটি তাদের বিদ্যমান ব্যবসার সম্প্রসারণ ও বাংলাদেশের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার প্রতি আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্বের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানির উচ্চমূল্য নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে চাপ তৈরি করছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যমান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা আবার বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রবণতাই সামগ্রিক এফডিআই প্রবৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।
তবে একই সময়ে নতুন ইক্যুইটি মূলধন বিনিয়োগে কিছুটা দুর্বলতা দেখা গেছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নিট ইক্যুইটি মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কম। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে চাপ তৈরি করছে।
অন্যদিকে, আন্তঃকোম্পানি ঋণের নিট প্রবাহ ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ কমে ৮ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এ সময়ে মোট ৩৩৩ দশমিক ৮০ মিলিয়ন ডলারের আন্তঃকোম্পানি ঋণ এলেও আগের ঋণের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পরিশোধের কারণে নিট প্রবাহ কমেছে।
খাতভিত্তিক হিসাবে, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) বাইরের খাতে নিট এফডিআই ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ২৮০ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিট এফডিআই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ৪ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে।
তবে আগের প্রান্তিকে এ খাতে নিট বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে আগের প্রান্তিকের তুলনায় বিনিয়োগের প্রবাহ বেড়েছে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের মধ্যেও বাংলাদেশে নিট এফডিআই বেড়েছে, যা ইতিবাচক। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক থাকায় নতুন ইক্যুইটি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এখনো চ্যালেঞ্জের।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আগে থেকেই বিনিয়োগ করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বিনিয়োগকৃত আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এটি দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ ও দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার প্রতি তাদের আস্থার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নাহিয়ান রহমান বলেন, বাংলাদেশে আরো বেশি ও মানসম্মত বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিনিয়োগ পরিবেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ চলছে। সম্প্রতি কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা আশাব্যঞ্জক। পাশাপাশি, ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলোকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর উন্নয়ন ও বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত করাও অগ্রাধিকারে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক দশকের বেশি সময় ধরে আটকে থাকা চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল প্রকল্পের উন্নয়নকাজ এখন এগোচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এর উন্নয়নকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এ অঞ্চলকে ঘিরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ইনভেস্ট বাংলাদেশের ১৮০ দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ পর্যন্ত নেওয়া উদ্যোগ, অর্জন এবং যেসব ক্ষেত্রে আরো কাজ করা প্রয়োজন, তা তুলে ধরা হয়েছে। ভবিষ্যতেও কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য জানানো হবে। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগ, নতুন কারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থানে রূপ দেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য।