২২ অবৈধ পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে লেনদেন না করার পরামর্শ বাংলাদেশ ব্যাংকের
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
লাইসেন্সবিহীন ২২টি অবৈধ অনলাইন পেমেন্ট এগ্রিগেটর প্ল্যাটফর্মে লেনদেন থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে সতর্ক করে সবাইকে এসব প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ‘পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪’-এর ৪(২) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্স গ্রহণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি পরিশোধ ব্যবস্থা পরিচালনা বা পরিশোধ সেবা দিতে পারে না। একই আইনের ৩৭(১) ধারা অনুযায়ী এ ধরনের কার্যক্রম শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ২২টি প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করেছে, যারা বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স ছাড়াই পেমেন্ট এগ্রিগেটর সেবা দিয়ে আসছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে লাইসেন্সবিহীন পেমেন্ট এগ্রিগেটর কার্যক্রম পরিচালনা ও এতে অংশগ্রহণ থেকে সবাইকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ‘ক্রসমার্কেট.এআই’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিনিয়োগ গ্রহণ ও আর্থিক লেনদেন পরিচালনার বিষয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত এ ধরনের প্ল্যাটফর্মে অর্থ বিনিয়োগ বা লেনদেন দেশের প্রচলিত আইনে অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ক্রসমার্কেট.এআই’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিনিয়োগ গ্রহণ ও আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে। অনুমোদনহীন কোনো প্ল্যাটফর্মে অর্থ জমা বা লেনদেন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ফলে এসব প্ল্যাটফর্মে লেনদেন করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও অজান্তে আইনগত অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারেন।
এ অবস্থায় নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ সুরক্ষিত রাখতে ‘ক্রসমার্কেট.এআই’-সহ যেকোনো অবৈধ ও অননুমোদিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অর্থ বিনিয়োগ বা লেনদেন থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এদিকে মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে পরিচালিত অনুমোদনবিহীন ও অবৈধ ঋণ কার্যক্রম থেকেও জনসাধারণকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনুমোদনবিহীন ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) নজরে এসেছে। এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীদের মোবাইল ফোনে থাকা যোগাযোগের তথ্য, ছবি ও অন্যান্য সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে। পরে ঋণ আদায়ের নামে গ্রাহকদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো ঘটনা ঘটছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান ছাড়া কোনো মোবাইল অ্যাপ বা ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা বৈধ নয়। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী প্রতারণামূলকভাবে ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বিএফআইইউর নজরে ৩১ অননুমোদিত অ্যাপ
বিএফআইইউর নজরে আসা ৩১টি অননুমোদিত অ্যাপ হলো—সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরো, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।
গ্রাহকদের জন্য ৪ পরামর্শ
১. কোনো মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
২. প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত অবৈধ ঋণ কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৩. ঋণের প্রলোভনে অপরিচিত অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাব বা ফোনের সংবেদনশীল তথ্য দেবেন না।
৪. ঋণ দেওয়ার নামে কোনো অগ্রিম অর্থ, প্রসেসিং ফি বা নিবন্ধন ফি চাওয়া হলে সতর্ক থাকুন।
এ ধরনের অনুমোদনবিহীন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কেউ প্রতারিত হলে বা এ বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে বিএফআইইউর ওয়েবসাইট অথবা মতিঝিলে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিএফআইইউ পরিচালকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।