EN ☀️
×

Follow Us

অর্থনীতি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক

আমানতকারীদের আতঙ্ক কমেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বস্তি

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৭ এএম

আমানতকারীদের আতঙ্ক কমেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বস্তি

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানত ফেরত নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা তুলছেন না অনেক গ্রাহক। কার্যক্রম শুরুর পর আবেদন করা অর্থের বড় অংশই এখনো উত্তোলন করা হয়নি। উল্টো চার দিনে নতুন করে ৮৯৪ কোটি টাকা আমানত জমা পড়ায় ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থার ইঙ্গিত মিলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। কারণ, একীভূত হওয়ার আগে ব্যাংকটির সঙ্গে যুক্ত ব্যাংকগুলোর আর্থিক দুর্বলতা ও তারল্য সংকট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা ছিল। বিশেষ করে আমানত ফেরত পেতে গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টি জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করেছিল। ফলে নতুন ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম শুরুর পর গ্রাহকরা একযোগে আমানত তুলে নিতে এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারত। কিন্তু আমরা ভিন্ন এক পরিস্থিতি দেখছি।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে একসঙ্গে ৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। কার্যক্রম শুরুর পর যাতে ব্যাংকটি সংকটে না পড়ে, সে জন্য অর্থের সংস্থান ও ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি আমানতকারীদের আস্থা ধরে রাখতে অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়াকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে। এরই মধ্যে গ্রাহকদের প্রত্যাশার তুলনায় আমানত উত্তোলনের চাপ কম থাকায় সেই ব্যবস্থাপনার ওপরও চাপ কিছুটা কমেছে।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর ১৮ হাজার ৪৬ জন গ্রাহক মোট ১ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেন। আবেদন করা এসব অর্থ ৭ সেপ্টেম্বর ফেরত দেওয়ার প্রস্তুতি রাখে ব্যাংকটি। তবে অর্থ ফেরতের প্রথম দিন মাত্র ৮ হাজার ১২৫ জন গ্রাহক ৩১৯ কোটি টাকা উত্তোলন করেন।


একইভাবে ২ সেপ্টেম্বর ১৯ হাজার ৬১৩টি আবেদনের বিপরীতে ৮ সেপ্টেম্বর টাকা তুলতে আসেন ৭ হাজার ২৩৪ জন গ্রাহক। মোট ১ হাজার ১৬ কোটি টাকা চাহিদার বিপরীতে ওই দিন উত্তোলন হয় মাত্র ৩৪০ কোটি টাকা।

এরপর ৩ সেপ্টেম্বর আবেদন করা ২১ হাজার ৮৬ জন গ্রাহকের ৯২৩ কোটি টাকা ৯ সেপ্টেম্বর ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। বিপরীতে ১০ হাজার ৬৯৭ জন আমানতকারী ৩৮১ কোটি টাকা উত্তোলন করেন।

সর্বশেষ ৬ সেপ্টেম্বর আবেদন করা ১৫ হাজার ৪৭৬ জন গ্রাহককে গত বৃহস্পতিবার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। ওই দিন ৬৫৭ কোটি টাকা চাহিদার বিপরীতে ৯ হাজার ৪১ জন আমানতকারী মাত্র ৩৯১ কোটি টাকা উত্তোলন করেন।

সব মিলিয়ে ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৫১১ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৭৭ জন গ্রাহক। বিপরীতে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৫ হাজার ৯০৭ জন গ্রাহক ১ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। অর্থাৎ, আবেদন করা অর্থের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই উত্তোলন করা হয়নি।

অন্যদিকে, অর্থ ফেরত কার্যক্রম শুরু করার পর ৭ সেপ্টেম্বর ব্যাংকে নতুন করে ১৪১ কোটি টাকা জমা হয়। পরদিন জমা পড়ে ১৯৫ কোটি টাকা। একইভাবে ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর যথাক্রমে ২৪৪ কোটি ও ৩১৪ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা পড়ে। সব মিলিয়ে চার দিনে ব্যাংকটিতে নতুন করে ৮৯৪ কোটি টাকা জমা হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তোলার সুযোগ পাওয়ার পরও উত্তোলনের হার এত কম থাকা আশাব্যঞ্জক। এতে পরিষ্কার, নানা সংকটের পরও ব্যাংকগুলোর ওপর সাধারণ গ্রাহকদের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়নি। এর পেছনে রয়েছে সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের প্রতি মানুষের আস্থা। বিশেষ করে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠনের পাশাপাশি একজন দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিকে এমডি নিয়োগ দেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

খেলাপি ঋণের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী একীভূত হতে যাওয়া শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক। পুরো ব্যাংক খাতে খেলাপি হওয়া ঋণের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি এই পাঁচ ব্যাংকের। জুনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের, ৬০ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের ৯৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশই এখন খেলাপির তালিকায়। এক্সিম ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩৮ হাজার ৫২ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৭০ দশমিক ৮১ শতাংশ। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৯ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৭৮ দশমিক ১৫ শতাংশ।

এ ছাড়া ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির বিতরণ করা ঋণের ৯৭ শতাংশই খেলাপির তালিকায়। টাকার অঙ্কে তা যথাক্রমে ২৭ হাজার ১৩৪ কোটি ও ১৪ হাজার ২১৯ কোটি টাকা।

একীভূত হতে যাওয়া পাঁচটি ব্যাংকের বাইরে আরও অন্তত এক ডজন ব্যাংক নানা সংকটে ভুগছে। এর বাইরে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর অবস্থা আরও নাজুক। সরকারকে এসব ব্যাংকের বিষয়েও বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মনে করেন ড. ফাহমিদা খাতুন।

আরও পড়ুন