২০৩১ সালের মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলার অলংকার রপ্তানির লক্ষ্য বাজুসের
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ ও হীরার অলংকার রপ্তানি করে দেশের জুয়েলারি খাতকে দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীতে আয়োজিত ‘বাজুস জুয়েলারি ফ্যাশন কার্নিভাল-২০২৬’-এ লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির সভাপতি এনামুল হক খান এ লক্ষ্য ও জুয়েলারি শিল্পের উন্নয়নে নীতিগত সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এনি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বাজুস জানায়, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি দেশের প্রায় ৪০ হাজার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছে। এ খাতে প্রায় ৪ লাখ কারিগর কাজ করছেন এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, জুয়েলারি শিল্পকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করতে নীতিগত সংস্কার প্রয়োজন। অভ্যন্তরীণ বাজারের সংস্কারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বমানের জুয়েলারি রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাজুস।
নীতিমালার অস্পষ্টতাকে এ খাতের অন্যতম বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে বাজুস বলেছে, বৈষম্যহীন নীতিমালার মাধ্যমে স্বর্ণ আমদানির পথ সহজ করা হলে স্থানীয় বাজারে ভরিপ্রতি অন্তত ৩০ হাজার টাকা কম দামে অলংকার বিক্রি সম্ভব।
বাজুসের মতে, ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’ বাস্তবায়ন করা হলে সরকার এ খাত থেকে বছরে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে বাজারে থাকা অপ্রদর্শিত স্বর্ণ এককালীন ফি দিয়ে প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হলে সরকার আরও ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারবে। এর মাধ্যমে দেশে থাকা স্বর্ণের মজুদের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজও তৈরি করা সম্ভব হবে।
দেশীয় কারিগরদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০টি নতুন আধুনিক জুয়েলারি কারখানা গড়ে তোলার লক্ষ্যও জানিয়েছে বাজুস। সংগঠনটির দাবি, এসব কারখানায় ৫০ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ এবং ১ লাখ মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এতে দেশের জিডিপিতে অতিরিক্ত ০ দশমিক ৫ শতাংশ অবদান রাখা সম্ভব হবে।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঢাকায় ১০ বিঘা জমির ওপর ‘স্বর্ণপল্লী’ নামে একটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাজুস বলেছে, ২০০৬ সালের অমসৃণ হীরা আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা যুগোপযোগী করা এবং হীরা আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্কহার কমিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য আনা প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত স্বর্ণপল্লীতে ডায়মন্ড প্রসেসিং ইউনিট স্থাপন করা গেলে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি ২০৩১ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের হীরার অলংকার রপ্তানি সম্ভব বলে মনে করছে বাজুস।
সংগঠনটির আশা, নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং স্বর্ণ ও হীরা আমদানির পথ সহজ করা গেলে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে মোট ৭ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ ও হীরার অলংকার রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে জুয়েলারি খাতকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে বাজুসের।