সুগন্ধি চালের রপ্তানি কোটা কমাচ্ছে সরকার
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা ও দাম বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগে অনুমোদন দেওয়া রপ্তানি কোটা পুনর্বিবেচনা করে কমানো বা সমন্বয় করা হতে পারে।
এ জন্য রপ্তানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে প্রকৃত রপ্তানির তথ্য চাওয়া হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এসব তথ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে এ–সংক্রান্ত চিঠি জারি করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সুগন্ধি চালের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগে দেওয়া রপ্তানি অনুমোদনের পরিমাণ কমানো বা সমন্বয় করা প্রয়োজন। এ জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত রপ্তানির পরিমাণের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
অনুমতি পাওয়ার পরও যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত পরিমাণ সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারেনি, তাদের অব্যবহৃত কোটা পুনর্বিবেচনার আওতায় আসতে পারে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আবার আংশিক রপ্তানি করেছে।
এর আগে ২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সুগন্ধি চালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে চালের উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বাজার পরিস্থিতি ও রপ্তানির প্রকৃত চিত্র পর্যালোচনা করা হয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে দুই দফায় মোট ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম দফায় ১৩ মে ২১১টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৬৭টি প্রতিষ্ঠান অনুমতি পায়। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য মোট ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
২ আগস্টের সভায় জানানো হয়, অনুমতি পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী চাল রপ্তানি করতে পারেনি। কেউ কেউ আংশিক রপ্তানি করেছে। ফলে অনুমোদিত কোটা ও প্রকৃত রপ্তানির মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
এ কারণে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রকৃত রপ্তানির হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এসব তথ্য যাচাই করে অনুমোদিত কোটা কমানো বা সমন্বয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, দেশের শীর্ষ ১০টি বড় মিল মালিকের কাছে বিপুল পরিমাণ সুগন্ধি চাল মজুত রয়েছে। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী চাল সরবরাহ না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করায় দাম বেড়েছে বলে তাদের দাবি।
সব পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা ঠেকাতে কঠোর তদারকির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বাজার তদারকি আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে রপ্তানির অনুমতি পেয়েও যারা নির্ধারিত পরিমাণ চাল রপ্তানি করতে পারেনি, তাদের অব্যবহৃত কোটা বহাল রাখার যৌক্তিকতাও পর্যালোচনা করা হবে।